ব্ল্যাক ম্যাজিকঃ দ্য ডার্ক আর্টস

ডার্ক আর্টস বা ব্ল্যাক ম্যাজিক, এক ধরণের সিক্রেট আর্ট যেটা সাধারন মানুষের থেকে দূরে রাখা হয়েছে অনেক অনেক বছর ধরে।

পনের বিসিই থেকে শুরু করে হাজার বছর ধরে ব্ল্যাক ম্যাজিক (এক ধরনের সাইকিক এনার্জি, জাপানিজদের মতে ‘দ্যা পাওয়ার অফ চি’) মানুষের ক্ষতি করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু ব্ল্যাক ম্যাজিক ব্যবহার করেও ভালো কাজ করা যায়, মানুষের উপকার করা যায় এই বিষয় সম্পর্কে মানুষ জেনেছে ১৬৫০ সালের পর থেকে।

ম্যাসাচুসেটসের সালেম শহরে ১৬৫০ সাল থেকে ১৬৯০ সাল পর্যন্ত প্রায় দুইশোয়ের বেশি নারী ও পুরুষকে উইচক্রাফট (এক ধরণের গোষ্ঠি যারা বিভিন্ন কাজে জাদু ব্যবহার করে) করার দায়ে ফাঁসি দেয়া হয়।

 

Salem Witch Trials
Salem Witch Trials

ইতিহাস বলে, সালেম শহর ততটা উন্নত ছিলো না। কিন্তু ১৬০০ সালের সেই পারিপার্শ্বিক অবস্থার দিকে তাকিয়ে উইচক্রাফট যারা করে, তাদেরকে ফাঁসি দেয়া হয়।

এর কারণ হিসেবে বলা হয়, মানুষ তখন শুধুমাত্র ঈশ্বরকেই ভয় পেতো। আর সুপারন্যাচারাল ক্ষমতাকে ইশ্বরের রিভার্স বলে চালিয়ে দিতো। তখনকার পাদ্রি গোষ্ঠি খুবই অন্তর্মুখী চরিত্রের হওয়ার কারণে অস্বাভাবিক ক্ষমতাকে আটকে দেয়ার পরিকল্পনা করতো। তখনকার মানুষের চিন্তাভাবনা কতটা গোঁড়া ছিলো সেটা তখনকার কয়েকটা আইনের দিকে তাকালেই বুঝতে পারবেন।

তখনকার বেশ কিছু স্ট্রেঞ্জ ধরণের আইন ছিলো এমন,
১। মেয়েরা প্যান্ট পড়তে পারবে না। আলখাল্লা পড়তে হবে।
২। আঞ্চলিক ভাষা (অ্যাকসেন্ট) ছাড়া অন্য ভাষায় কথা বলতে পারবে না।
৩। নারীরা অ্যালকোহল পান করতে পারবে না।
৪। পাদ্রীরা ঈশ্বরের সমান। সেই হিসেবে তাদেরকে সর্বোচ্চ সম্মান দিতে হবে।
৫। পাদ্রীদের যেকোনো ভুল তিনবার পর্যন্ত ক্ষমা করা যাবে। সাধারণ মানুষের ভুল ক্ষমার অযোগ্য।

সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে তখনকার পারিপার্শ্বিক অবস্থার দিকে তাকালেই দেখা যায়, সালেম শহর কতটা পিছিয়ে ছিলো।

যাই হোক! তো, সালেম শহরের সেই ঘটনার পর, ১৭০৫ সালের দিকে বেশ কয়েকজন পাদ্রীকে লোকাল গভর্নমেন্ট যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয় এবং সেদিনের পর থেকে সালেম শহর বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে উঠতে শুরু করে।

আসলে কি জানেন?

ম্যাজিক (জাদু) বা স্পেল (মন্ত্র) সাধারণত রঙহীন হয়। আমরা যদিও ব্ল্যাক ম্যাজিক বলে থাকি, আসলে এটার কোনো রঙ নেই। ব্ল্যাক ম্যাজিককে আমরা কালোজাদু বা খারাপ হিসেবে দেখে থাকি আর হোয়াইট ম্যাজিককে ভালো বা উপকারী জাদু হিসেবে দেখে থাকি। সে হিসেবে খারাপ আর ভালোর ডিফারেন্স করা হয়েছে এই ব্ল্যাক আর হোয়াইট দিয়ে।

 

Black Magic The Dark Arts
Black Magic The Dark Arts

অনেক ধর্মেই ব্ল্যাক এবং হোয়াইট ম্যাজিক ডিরেক্টলি নিষেধ করে দেয়া হয়েছে। আবার অনেক ধর্মেই এটা ডিরেক্টলি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ঘুরে ফিরে প্রত্যেক ধর্মেই ম্যাজিক বা ম্যাজিকাল স্পেল ব্যবহার করা হয়। এমনকি ইসলাম, হিন্দু, খ্রিস্টান, প্রত্যেক ধর্মেই ম্যাজিক ইন্ডিরেক্টলি ব্যবহৃত হয়।

কীভাবে?

সেটা জানার আগে আপনাকে স্পষ্টভাবে ও গোঁড়ামি দূরে সরিয়ে রেখে জানতে হবে যে, আসলে ম্যাজিক কি বা স্পেল কি আর এসব কীভাবে কাজ করে!

যদি এক কথায় বলতে হয়,
ম্যাজিক বা জাদু হচ্ছে একটি বিশেষ টার্ম যেখানে কিছু বিশেষ প্রার্থনা বা মন্ত্র বা স্পেল উচ্চারণ করার কারণে আপনার শরীর ও অবচেতন মন একসাথে সংযুক্ত হয় এবং এর ফলে যে ভাইব্রেশনের (‘সাইকিক এনার্জি বা চি’) সৃষ্টি হয় তার ফলে আপনি অতিপ্রাকৃত রেল্মে ঢুকতে পারেন।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে,

ব্ল্যাক ম্যাজিক কাজ করে কেন?

উত্তরঃ এগুলো কাজ করে কারণ এগুলো লেখা হয়েছে বা তৈরি হয়েছে বা এসেছে সরসরি ঈশ্বরের হাত ধরে।

একবার শুধু চিন্তা করুন, ইসলাম ধর্মানুসারে, আল্লাহ শুধুমাত্র উচ্চারন করেছিলেন ‘হও’ আর সাথে সাথে পুরো পৃথিবী তৈরি হওয়া শুরু হয়েছিলো। খ্রিস্টান ধর্মমতে, ইশ্বর বলেছেন ‘সো বি ইট’ আর তার সাথে সাথেই পৃথিবী তৈরি হওয়া শুরু হয়। প্রত্যেক ধর্মেই ঈশ্বরের এক কথায় বা বাক্যে বা শব্দোচ্চারনে পৃথিবী তৈরি হয়। সুতরাং ঈশ্বরের কথার মর্ম বা ঈশ্বরের বাক্যের ক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চয়ই আর কোনো সন্দেহ নেই।

তাই না?

আর সেজন্যেই ম্যাজিকের স্পেল কাজ করে। কারণ, স্পেলগুলো কোনো না কোনোভাবে, কোনো না কোনো ধর্মের সাথেই যুক্ত। হিন্দু ধর্মে, ব্রক্ষ্মার থেকে রাবনের মতো অসুর যদি ব্রক্ষ্মাস্ত্রকে বর্দান হিসেবে অর্জন করতে পারে, তাহলে অন্য ধর্মে ঈশ্বরের কথাগুলোকেই খারাপ কাজে ব্যবহার করার শতভাগ নিশ্চয়তা রয়েছে।

অতিপ্রাকৃত রেল্ম কি?

উত্তরঃ অতিপ্রাকৃত রেল্ম হচ্ছে, যেখানে স্পিরিট বা আত্মা, জ্বিন বা ডেমন বসবাস করে।

চি বা সাইকিক এনার্জি কি?

উত্তরঃ আপনার শরীরের চারদিকে এক ধরনের হিউম্যান এনার্জি ফিল্ড আপনাকে ঘিরে রয়েছে। যেটাকে ‘অওরা’ বলা হয়ে থাকে। একইভাবে আপনার ভেতরে থাকা স্পিরিট বা লাইফ ফোর্স বা লাইট অফ লাইফকে বলা হচ্ছে সাইকিক এনার্জি বা চি

 


 

এটা তো আমরা বিশ্বাস করি যে কিছু না কিছু, কেউ না কেউ নিশ্চয়ই আমাদের পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন। আমাদের তৈরি করা থেকে শুরু করে আমাদের মৃত্যু পর্যন্ত আমাদের নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং করবেন।

কিন্তু সেই ‘কিছু’ বা ‘কেউ’ আসলে কে?

এটার উত্তর খুজতে হলে আপনাকে একটা ধর্মের দিক থেকে বিবেচনা করলে হবে না। মোট কথা হচ্ছে, কেউ একজন আছেন যিনি পৃথিবীতে সবকিছুতেই ক্ষমতা দিতে পারেন। সেই ‘কিছু’ বা ‘কেউ’ হচ্ছে ঈশ্বর বা সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অস্তিত্ব।

অনেকেই জেনে থাকেন যে, ব্ল্যাক ম্যাজিক করা মানেই শয়তানের পূজা করা। এই কথাটা শুনলেই আমার হাসতে ইচ্ছে করে। কেনো জানেন? কারণ, বেশিরভাগ ধর্মেই একটা সমস্যা আছে। আর সেটা হচ্ছে, আমরা যখন ধর্ম নিয়ে বা প্যারাসাইকোলজির কোনো কিছু নিয়ে কোনো কথা বলি তখন সেখানে যে রিসোর্স বা উদাহরণগুলো দিই সেগুলো নিজের ধর্মের পারস্পেকটিভ থেকে দিই।

কিন্তু এটা ভুলে যাই যে, পৃথিবীতে নিজের ধর্ম ছাড়াও আরো প্রায় ৪২০০ ধর্ম রয়েছে। এখন আপনি যখন কাউকে বলতে শুনে থাকেন কিংবা নিজেই যখন বলেন যে, ব্ল্যাক ম্যাজিক মানে শয়তানের পূজা করা; তার মানে দাঁড়াচ্ছে যে, শুধুমাত্র আপনার ধর্ম বাদ দিয়ে বাকি সকল ধর্মের ঈশ্বরই হচ্ছেন শয়তান।

তাইনা?

এটা অনেক সেনসেটিভ একটা বিষয়। দয়া করে ভালো করে পড়ে তারপরে কমেন্ট করবেন।

ইসলাম ধর্মে যেকোনো ধরনের জাদুবিদ্যা নিষেধ।

তাই না?

কিন্তু তারপরেও হোয়াইট ম্যাজিক বা তাবিজ নামে যেসব আপনারা নিজেদের শরীরে ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সেগুলো কি?

আর অনেকেই বলেন যে সেগুলো কাজ করে। শুধু অনেকেই নয়, আমি নিজেই দেখেছি যে কিছু ‘আয়াত’ পড়ার কারণে অলৌকিকভাবে পাত্রের পানির রঙ পরিবর্তন হতে, ‘আয়াত’ পড়ে জ্বিনের আছর থেকে মুক্তি পেতে, ‘আয়াত’ পড়ে জ্বিন ডেকে আনতে।

এগুলো কিভাবে হচ্ছে?

বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, এগুলো কিন্তু কোরআন থেকে নেয়া হয়েছে কিংবা হয়তো বিশেষ কোনো কিতাব থেকে নেয়া হয়েছে (হাদিস, যাবূর ইত্যাদি!) আর তারপরে সেগুলো থেকেই তাবিজ বা তথাকথিত হোয়াইট ম্যাজিকটা করা হচ্ছে।

এখানে দুটো কথা লুকিয়ে আছে।

প্রথমটা হচ্ছে, ইসলামে জাদু নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও আমরা তাবিজ পড়ি আর পড়বোই।

২০১৭ সালের একটি স্ট্যাটিসটিকসে দেখা গিয়েছে বাংলাদেশের একশভাগের মাঝে ২৬ ভাগ মানুষ এখনো তাবিজে বিশ্বাস করে ও তাবিজ নিজের সাথে বহন করে।

দ্বিতীয়টা হচ্ছে, ম্যাজিকের বা জাদুর কোনো রঙ হয় না।

ইসলাম যেকোনো তাবিজকে নিষিদ্ধ করেছে কেনো জানেন?

কারণ সবই হচ্ছে ব্ল্যাক ম্যাজিক।

এখন প্রশ্ন করতে পারেন,

ইসলামে কি তাহলে অকাল্টিজম বা স্পিরিচুয়ালিজম নেই?

অবশ্যই আছে। ইসলামেও স্পিরিচুয়ালিজম আছে। ইসলামেও জ্বিন বা ডেমন আছে। ইসলামেও অকাল্টিজম রয়েছে।

অনেক মানুষকেই হয়তো বলতে শুনেছেন যে, সূরা ইখলাস যদি কেউ উলটো করে তিনবার পড়ে তাহলে তার মুখ দিয়ে আগুন বের হবে। আমি অন্য কিছু শুনেছি। অনেকেই অনেক কিছু শুনেছেন।

এটা সম্পূর্ণ হাস্যকর একটা তথ্য। সূরা ইখলাসকে উলটো করে তিনবার কেনো হাজারবার পড়লেও কিছুই হবে না। কেনো জানেন?

কারণ, পড়তে থাকুন! বলছি…

 

আচ্ছা, এখানে সূরা ইখলাসের বিষয়টা উল্লেখ করার কারণে অনেকেই হয়তো কমেন্টে ঝড় উঠাতে পারেন।

তাদের জন্য আগেই বলছি, ইসলাম ধর্মে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, কোরআন মুসলিমদের জন্য সর্বোচ্চ পবিত্র বই। আর তাই এর প্রতিটি বাক্য মুসলিমদের জন্য খুবই বিশুদ্ধ এবং এর যেকোনো পরিবর্তন, পরিমার্জন ও বিকৃতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আর এটা করলে মুসলিমদের সর্বোচ্চ গুনাহ প্রাপ্ত হতে হবে। আর এই কারনেই কোরআন নিয়ে খেলতে অর্থাৎ সূরা ইখলাসকে বা যেকোন সূরাকেই উলটো করে পাঠ করতে মানা করা হয়েছে।

যাই হোক, আমি শুধু ইসলাম নিয়েই কথা বলছি না।

হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে পুরনো ও সবচেয়ে বেশি পবিত্র পাঠ হচ্ছে বেদ। যেটা ১৫ বিসিইয়ের পূর্বে হিন্দুদের কাছে এসেছে। যেটা লেখা হয়েছে সংস্কৃতের সবচেয়ে পুরনো মেথডে। বেদ থেকে আপনি  ছয়টি অবস্থাগুলোর সাথে সঠিক স্পেল বা মন্ত্র পড়তে পারলে এটা দিয়েও কাজ করা সম্ভব হবে।

এখন কথা হচ্ছে, তাহলে মুসলিমরা কি হিন্দুদের শয়তানের পূজারি বলবে? আবার হিন্দুরা কি মুসলিমদের শয়তানে পূজারি বলবে?

 

Magic Spell in Hieroglyphics
Magic Spell in Hieroglyphics

কেউই কাউকে শয়তানের পূজারি বলতে পারবে না। কারণ, দুই পক্ষই নিজেদের ধর্মকে সবচেয়ে উপরের ধর্ম হিসেবে দেখছে এবং নিজেদের ধর্মের গন্ডির মাঝে থেকেই সব কাজ করছে।

এখন ক্লিয়ার হয়ে যাওয়ার কথা!

একইভাবে খ্রিস্টানদের জন্য তাদের বাইবেল, বৌদ্ধদের জন্য (যদিও বৌদ্ধ-ধর্ম কোনো ধর্ম নয়) তাদের সূত্র, ইহুদীদের জন্য তাওরাত, তানাখ বা মিশনাহ বা তালমূদ অথবা মিদরাশ থেকে নিয়ম মেনে যে লেখা (স্পেল) পড়বেন সেটাই কাজ করবে।

 


 

স্পেল বা মন্ত্র কাজ করার জন্যে কিন্তু যা ইচ্ছা পড়লেন আর কাজ হয়ে যাবে তা না।

ভাবছেন যে, কোরআনের দুটো আয়াত পড়লেন বা বেদ থেকে দুটো ভার্স পড়লেন কিংবা তাওরাতের যেকোনো প্যাসেজ পড়লেন আর আপনি হাওয়ায় ভাসতে শুরু করলেন।

সেভাবে কোনো কিছুই কাজ করে না। পৃথিবীতে এমন কিছুই নেই যেটা কোনো কারণ ছাড়া কাজ করে বা কোনো নিয়মের মধ্যে বাস করে না। সবকিছুরই Cause and Effect রয়েছে। আবার সবকিছুই নিয়মের মধ্যে সংগঠিত হয়।

অনেক মানুষকেই হয়তো বলতে শুনেছেন যে, সূরা ইখলাস যদি কেউ উলটো করে তিনবার পড়ে তাহলে তার মুখ দিয়ে আগুন বের হবে। আমি অন্য কিছু শুনেছি। অনেকেই অনেক কিছু শুনেছেন। এটা সম্পূর্ণ হাস্যকর একটা তথ্য।

সূরা ইখলাসকে উলটো করে তিনবার কেনো হাজারবার পড়লেও কিছুই হবে না। কেন জানেন?

এই জাদুবিদ্যা মূলত ছয়টি মূল কর্মের দ্বারা সাধিত হয়। এই ছয়টি অংশ একত্রে করা মানেই জাদুবিদ্যা করা সম্ভব বা যেকোনো মন্ত্র কাজ করবে। এই ছয়টি অংশ হচ্ছে,

  • দৃষ্টি বা দেখাঃ এক্ষেত্রে সেটা একটি বৃত্ত হতে পারে কিংবা চতুর্ভুজ, ত্রিভুজ, ভেসেল, বাতি, দড়ি, ইত্যাদি যেকোনো কিছুই হতে পারে।
  • শব্দঃ এক্ষেত্রে মন্ত্র বা স্পেলটাকেই শব্দ হিসেবে বলা হচ্ছে।
  • গন্ধঃ এক্ষেত্রে যেকোনো আগরবাতি কিংবা ঘ্রাণযুক্ত ধোঁয়াকেই বোঝানো হচ্ছে।
  • স্বাদঃ এক্ষেত্রে যেকোনো স্যাক্রামেন্ট বা স্বাদযুক্ত পিউরিফিকেশন বস্তুকে বোঝানো হচ্ছে।
  • স্পর্শঃ এক্ষেত্রে সেটা একটি বৃত্ত হতে পারে কিংবা চতুর্ভুজ, ত্রিভুজ, ভেসেল, বাতি, দড়ি, ইত্যাদি যেকোনো কিছুই হতে পারে। উল্লেখ্য যে, এখানে এসব অঙ্কনের মাঝে বসা বা স্পর্শ করে থাকাই বোঝানো হয়েছে।
  • মাইন্ড বা মনঃ এক্ষেত্রে উপরের সবকিছুর সাথে আপনার মনের সংযোগ বা বিশ্বাসকেই বোঝানো হয়েছে।

উপরের এই ছয়টি কাজ বা অবস্থার বর্ণনা দেয়া হয়েছে গোয়েটিক ম্যাজিক লিটারেচারের মধ্যে। এর বর্ণনা দিয়েছেন স্বয়ং কিং সলোমন। কিং সলোমন উনার লেসার কি অফ সলোমোনের প্রথম পর্ব আরস গোয়েটিয়াতে এই সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন।

কিং সলোমনকে তো চেনেন তাই না?

উনি হচ্ছেন ইসরায়েলের তৃতীয় রাজা যিনি মূলত রাজা ডেভিডের পুত্র। কোরআনে তাঁকে বলা হয়েছে সুলাইমান (আঃ) হিসেবে যিনি দাউদ (আঃ) এর পুত্র। কিং সলোমন অনেক ধনী এবং বুদ্ধিমান রাজা ছিলেন। তিনি শুধুমাত্র পার্থিব বুদ্ধিতেই পারদর্শী ছিলেন না বরঞ্চ তিনি অলৌকিক বুদ্ধিতেও পারদর্শী ছিলেন। তার লেখা বেশ কিছু বই, ডকুমেন্টারি রয়েছে যেখা

নে তিনি বিভিন্ন স্পেল বা মন্ত্র, রিচ্যুয়াল, সিজিল, তাবিজ, ইত্যাদি লিখে রাখতেন। তো সেই বইগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে, আরস গোয়েটিয়া।

আরস গোয়েটিয়া হচ্ছে, কিং সলোমনের ল্যামিগেটন ক্ল্যাভিকুলা সলোমনিস বইয়ের চারটি পর্বের প্রথম পর্ব। বইটিতে রয়েছে দুইশ’ ডায়াগ্রাম এবং সিজিল (সিল), যেগুলোর মাধ্যমে স্পিরিটদের ইনভোকেশন ও কনভোকেশন করা সম্ভব। একইসাথে সিলগুলো নেক্রোম্যান্সি, ব্ল্যাক আর্ট এবং উইচক্রাফটেও ব্যবহৃত হয়।

 

List of demons in ars goetia
List of demons in ars goetia

 

বইটি মূলত ল্যাটিন ও অরিজিনাল সলোমোনিস রেজিসের ম্যানুস্ক্রিপ্ট থেকে অনুবাদ করা হয়েছে। বইটির অরিজিনাল কপি পাওয়া যাবে ব্রিটিশ মিউজিয়াম, লন্ডনে।

লেমিগেটন, হচ্ছে ক্ল্যাভিকুলা সলোমোনিস রেজিস বইয়ের সম্পূর্ণ অংশ। অর্থাৎ এই বইয়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আরো চারটি বই। এই চারটি বইয়ের মধ্যে প্রথম ভলিউম হচ্ছে আরস গোয়েটিয়া, দ্যা বুক অফ ইভিল স্পিরিট।

বইটির বাংলা অনুবাদ করার কাজ চলছে। খুব শীঘ্রই হয়তো সেই অনুবাদের পিডিএফ কপি আপনারা ডাউনলোড করতে পারবেন, এখান থেকেঃ MuntasirMahdi Shop

এই বইয়ের যেসব তথ্য দেয়া আছে সেগুলো অরিজিন্যাল ম্যানুস্ক্রিপ্ট থেকে সংগৃহীত আর তাই এই বইয়ে সব ধরণের তথ্য সম্পূর্ণরূপে দেয়া আছে। কিন্তু বর্তমানে ইন্টারনেটে এই বইয়ের কিছু কপি বের হয়েছে যেগুলোতে এই বইয়ের অংশবিশেষ, খুবই কার্যকরী কিংবা সম্পূর্ণ বই হিসেবে ডাউনলোডের জন্য দেয়া হচ্ছে। সেসব বই থেকে সাবধান থাকুন।

কারণ, আপনি যদি ভুল বইটি পড়েন তাহলে সেটার সিজিল, ডেমোনিক ইনভোকেশন, কনভোকেশনব, ইভোকেশন, স্পিরিচুয়্যাল অ্যাড্রেস, ম্যাজিক স্পেল কোনোটাই কাজ করবেনা। বরঞ্চ একাধিকবার ভুল চেষ্টা করার ফলে হিতে বিপরীত হতে পারে। আর তাই, ভুল বই থেকে দূরে থাকুন।

বইটি পড়ার পর হয়তো আপনি অনেক সিজিল (সিল), তালিসমান সম্পর্কে অবহিত হবেন। কিন্তু মনে রাখবেন যে, সেগুলো তৈরির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। এটাও মনে রাখবেন যে, সঠিক আর শুদ্ধ তালিসমান এবং সিজিল তৈরি করার জন্য দরকার পড়ে স্বর্ণ অথবা সিলভার।

অর্থাৎ, স্বর্ণ অথবা সিলভারের মাধ্যমেই সিজিল বা তালিসমান তৈরি করতে হয়। পূর্বে সিলভার অথবা স্বর্ণের বদলে লৌহ ব্যবহার করা হতো। যদিও এটা বর্তমানে কেউ ব্যবহার করে না।

কিন্তু তারমানে এই নয় যে, লোহাতে বা লোহা দ্বারা তালিসমান তৈরি করা যাবে না! লোহা দ্বারাও তালিসমান তৈরি করা যাবে।

তালিসমান কিংবা সিজিল তৈরির জন্য সবচেয়ে বেশি যেটা কার্যকরী হয় সেটা হচ্ছে, ‘ভার্জিন পার্চমেন্ট পেপার’, যেটা তৈরি হয় নতুন জন্ম নেয়া ভেড়া বা মেষের চামড়া থেকে। তো বিশেষ ক্ষেত্রে পাঠক পাঠিকাদের জন্য এসব বস্তু খুঁজে পাওয়া বা সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে, আর তাই এক্ষেত্রে আপনি যেকোনো কিছুই ব্যবহার করতে পারেন। তবে চেষ্টা করবেন সবচেয়ে পবিত্র জিনিসই ব্যবহার করার জন্য ও ব্যবহারের পূর্বে শুদ্ধ করে নেয়ার।

 


 

 

ব্ল্যাক ম্যাজিক নিয়ে আসলে লেখা শুরু করলে হাজার হাজার নতুন শাখা প্রশাখা বের হয়ে আসে। তাই ব্ল্যাক ম্যাজিক নিয়ে আর বেশি বড় করা উচিত হবে না। এই ‘ব্ল্যাক ম্যাজিক’ আর্টিকেলের সমাপ্তি এখানেই ঘোষণা করছি।

যদিও ব্ল্যাক ম্যাজিক নিয়ে কয়েক হাজার পৃষ্ঠার বই লেখা সম্ভব কিন্তু ব্ল্যাক ম্যাজিক বা ডার্ক আর্টসে এমন অনেক কিছুই আছে যা গুরুত্বপূর্ণ নয় আবার অনেক কিছুই আছে যা প্রকাশ করা উচিত হবে না।

ইতিহাসে এমন অনেক বই আছে যার ভাষা উদ্ধার করা এখনো সম্ভব হয় নি। আবার ইতিহাসে এমন অনেক বই আছে যার সঠিক বর্ণনা করতে অনেক ইতিহাসবিদই থমকে গেছেন। একইভাবে অনেক বই আছে যা সত্যিকার অর্থেই কার্সড বা অভিশপ্ত।

এমন কিছু বই আছে যার ঘটনা মিথ বলে চালিয়ে দেয়া হলেও সেটা প্র্যাকটিস করে দেখার মতো সাহস অনেকেরই হয় নি। আবার এমন বই আছে যেগুলো লিখতে স্বয়ং ডেম্ন বা জ্বিনের সাহায্য নিয়েছেন লেখকেরা। এমন অনেক বই আছে যা সরাসরি খুঁজে পাওয়াও সম্ভব হয় নি।

 

ব্ল্যাক ম্যাজিক বলেন কিংবা ম্যাজিকই বলেন, এর সাথে ধর্মের সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি। ম্যাজিক কাজ করার জন্য সবেচেয়ে বেশি দরকার যে পয়েন্টটার সেটা হচ্ছে, ‘স্পেল বা মন্ত্র’।

উপরে আমি বারবার বলার চেষ্টা করেছি যে, মন্ত্র বা স্পেল মূলত বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগ্রন্থ ও পবিত্র গ্রন্থগুলো থেকে নেয়া বিশেষ কিছু শব্দ বা বাক্য। সুতরাং, প্রত্যেক ধর্মে আপনি এমন কিছু শব্দ বা বাক্যাংশ পাবেন যা আপনার ম্যাজিক করার সময় স্পেল হিসেবে কাজ করবে। তাই কখনোই ধর্মের ক্ষমতা বা ধর্ম গ্রন্থের ক্ষমতা দেখে ধর্ম বাছাই করতে হয় না।

ধর্ম সম্পর্কে আর বেশি কিছু বলছি না। ধর্ম নিয়ে বলা শুরু করলে সারাটা দিন-রাতে ধরে কথা বললেও তা শেষ হবে না। যদিও ৪২০০ টা ধর্মের সবগুলো নিয়ে কেউই গবেষণা করতে পারবে না।

কিন্তু আমি চেষ্টা করছি যতগুলো ধর্ম নিয়ে যতটা সম্ভব গবেষণা করা যায়। ধর্মের এই এনসাইক্লোপ্যাডিয়া সর্বপ্রথম বাংলা ভাষায় লেখা শুরু করেছি। শীঘ্রই ইন্টারনেটে এর পিডিএফ ভার্সন পেয়ে যেতে পারেন এখানে, MuntasirMahdi Shop

প্রত্যেক ধর্মের সাথেই ম্যাজিক কানেক্টেড। কিছু ধর্ম রয়েছে যেগুলো ম্যাজিককে সরাসরি সাপোর্ট করে আবার কিছু ধর্ম আছে যারা ম্যাজিককে পরোক্ষভাবে সাপোর্ট করে।

কিন্তু কষ্টকর হলেও আপনাকে মানতেই হবে যে, প্রত্যেক ধর্মই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ম্যাজিক বা জাদুকে সাপোর্ট করে। কোন ধর্ম ম্যাজিক বা জাদুতে প্রত্যক্ষভাবে সাপোর্ট করছে সেটা নিয়ে একটু পরে বলছি। তার আগে একটা উদাহরণ দিই!

 

বাই দ্য ওয়ে, মৃত মানুষকে আহ্ববানের প্রক্রিয়া নিয়ে লেখা এই আর্টিকেলটি পড়ে আসতে পারেনঃ মৃতমানুষের আত্মাকে আহ্বান

খ্রিস্ট্যানিটি দিয়ে শুরু করা যাক।

খ্রিস্টান ধর্মের পবিত্র বই হচ্ছে বাইবেল। বাইবেল শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘অনেকগুলো বইয়ের সংকলন’। অর্থাৎ বাইবেল কোনো একটি বই নয় বরঞ্চ বাইবেল ১৫০০ বছর আগের অনেকগুলো বইয়ের সংকলন।

ইসলাম ধর্মের মতে তাওরাত, যাবূর ও ইঞ্জিলই হচ্ছে বাইবেল যা পর্যায়ক্রমে মূসা (আঃ) বা মোসেহ, দাউদ (আঃ) বা ডেভিড এবং ঈসা (আঃ) বা জিসাসের উপর ঈশ্বর কর্তৃক রিভিল করা হয়েছে। রিভিল করেছেন আল্লাহ অথবা এলোহিম অথবা ইয়াহওয়ে।

ধারণা করা হয়, কোরআনে ঈশ্বর হিসেবে আল্লাহকে বুঝানো হয়েছে এবং বাইবেল অর্থাৎ তাওরাত, যাবূর ও ইঞ্জিলে ঈশ্বর হিসেবে ইয়াহওয়ে বা এলোহিমকে বুঝানো হয়েছে।

আমার মূল পয়েন্ট হচ্ছে যে, এই চারটি ধর্মগ্রন্থ কিন্তু জুডাইজম, খ্রিস্ট্যানিটি ও ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত। এখানে যেসব গ্রন্থ রয়েছে সেগুলো খুবই শক্তিশালি যা পৃথিবীর ভবিষ্যৎ বলে দিতে সক্ষম।

একইভাবে হিন্দু ধর্মের প্রধান ও দুনিয়ার সবচেয়ে পুরো গ্রন্থ হচ্ছে বেদ। বেদের দুটো অংশ। একটা হচ্ছে শ্রুতি ও আরেকটি হচ্ছে স্মৃতি। শ্রুতির বর্ণনা করে উপনিষদ ও স্মৃতির বর্ণনা করে পুরাণ। পুরাণের অনেক ভাগের মধ্যে একটি হচ্ছে ভবিষ্য পুরাণা, যেখানে ভবিষ্যতের অনেক কিছুই সম্পূর্ণ অ্যাকুরেটলি বর্ণনা করা হয়েছে।

আবার, বৌদ্ধ ধর্মের (যদিও এটা ধর্ম নয়!) সবচেয়ে পবিত্র গ্রন্থ হচ্ছে দ্যা গসপেল অফ বুদ্ধ বা পালি কানন অথবা ত্রিপিটক। আরেকটি বিশেষ গ্রন্থ হচ্ছে ‘দ্যা সূত্র’। এই দুই গ্রন্থে বেশ কিছু মন্ত্র রয়েছে যেগুলো দ্বারা অনেক ঘটনাই ঘটানো সম্ভব।

বৌদ্ধদের মতে, ‘দ্যা সূত্র’ একটি নির্দিষ্ট নিয়মে নির্দিষ্ট সুরে (রিদম) পড়তে পারলে স্বয়ং গৌতম বুদ্ধের শক্তি তাদের মাঝে ধরা দেয় যা তাদেরকে সর্বোচ্চ শক্তিশালি করতে পারে। উল্লেখ্য যে, গৌতম বুদ্ধ কিন্তু বৌদ্ধদের কোনো ঈশ্বর নয়। বৌদ্ধরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না।

 

The Sutras: Buddhism
The Sutras: Buddhism

যাই হোক!

মোদ্দা কথা হচ্ছে, প্রত্যেক ধর্মেই বিশুদ্ধ ও পবিত্র কিছু মন্ত্র বা স্পেল রয়েছে যেগুলোকে তারা অনেকেই হোয়াইট ম্যাজিক বলে থাকে। অনেকেই আবার এটাকে ম্যাজিক হিসেবে মানতে নারাজ। এটাকে অনেক ধর্মেই ঈশ্বরের বাণী বলা হয়েছে, ইসলামে যেটাকে বলা হয়েছে মোজেজা।

কিন্তু অনেক ধর্মই আছে যেখানে এই ম্যাজিক বা মোজেজা বা ঈশ্বরের বাণীকে সরাসরিই ব্ল্যাক ম্যাজিক বা ম্যাজিক বলে সম্বোধন করা হয়েছে।

এমন কিছু ধর্ম হচ্ছে, স্যাটানিজম ও এর সকল ভাগ এবং ফর্মগুলো, উইচক্রাফট, ভ্যাম্পায়ারিজম, লাইকানিজম, হার্মেটিসিজম, হিন্দুজম, শামানিজমসহ আরো অনেক ধর্মই রয়েছে যারা সরাসরি ম্যাজিককে তাদের ঈশ্বরের বাণী হিসেবে স্বীকার করে থাকে।

 

পুনশ্চঃ দয়া করে এসবের মাঝে ধর্মের গোঁড়ামি টেনে আনবেন না। ধন্যবাদ! ♥

By Muntasir Mahdi

Author, Marketer, Entrepreneur, Content Creator