ক্রিয়েট অ্যা বাউন্ডারি!

হুট করে মিটিংয়ে থাকা অবস্থায় যদি আপনার কল বেজে ওঠে তাহলে আপনি সেটাকে সাইলেন্ট করে দেবেন কারণ মিটিংটা আপনার লাইফে ইম্পোর্টেন্ট।

আমাদের নিজেদের পার্সোনাল লাইফেও যদি এমন হুট করে কল চলে আসে তাহলে সেক্ষেত্রে আপনি আপনার বাস্তব জীবনে কিভাবে সেই মিউট বাটনটা চাপবেন?

আপনি এখন প্রশ্ন করবেন, কোথায় সেই মিউট বাটনটা?

এই প্রশ্নের উত্তর দেবো একটু পরেই!

তার আগে আজকের গল্পটা বলে নিই! কেমন?

আপনি একটি গাছ লাগালেন। গাছটা বাড়বে, বাড়ছে আর এটাই গাছের নিয়ম; রাইট?

হুট করে তো সেই গাছটা দশতলা বিল্ডিংয়ের সমান হয়ে যাবে না তাই না?

আপনি সেই গাছটাকে খেতে দিলেই তো সে বাড়বে। কিন্তু আপনি কি করলেন?

গাছটা জন্মের পর দেখতে কালো ছিল বলে, গাছটা জন্মের পর অপ্রস্তুত ছিল বলে, গাছটা ‘মিউট্যান্ট’ হিসেবে জন্মেছিলো বলে; আপনি সেই গাছটাকে ঘৃণা করলেন, আপনি সেই গাছটাকে খেতে দিলেন না।

গাছটার ভবিষ্যৎ আপনি জানেন?

উঁহু! জানেন না!

কিন্তু আপনার সিদ্ধান্ত, আপনার মুখনিঃসৃত বাক্যগুলো গাছটাকে মেরে ফেললো!

বুঝতে পারছেন আমি কিসের কথা বলছি?

আমি ‘সাপোর্টের’ কথা বলছি ব্রাদারস এন্ড সিস্টারস!

আপনি যখন কিছু একটা শুরু করতে যাবেন, যখন নতুন একটা গল্প তৈরি করতে যাবেন, তখন আপনার আশেপাশে তিন ধরণের মানুষ তৈরি হবে।

এক ধরণের মানুষের কাজ হবে আপনার সেই নতুন গল্পটাকে পুরোটা শুনে শেষ করতে; তারা আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী।

আরেকধরণের মানুষের কাজ হবে, আপনার গল্পটাকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করা, আপনার গল্পের ভুল খুঁজে বেড়ানো, আপনার গল্পটা শোনার কোনো ইচ্ছাপ্রকাশ না করা; এদের আমরা চিনি নেগেটিভ ব্যক্তিবর্গ হিসেবে!

আর সর্বশেষ ধরনের মানুষ আপনাকে পাত্তাই দেবে না! অথবা আপনাকে চিনবেই না! তাদেরকেই যদি আমি ‘ডেমোক্রেসি’ বলি তাহলে আমার অত বড় ভুল হবে না আশা করি!

যাই হোক, দূরের মানুষগুলো তো বাদই দিন, কাছের মানুষগুলোও কিন্তু এই ধরনের ‘কল’ আপনার লাইফের মিটিংয়ে নিয়ে আসবে! তাদের কল বাজতে থাকবে আর আপনি সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবেন!

সিদ্ধান্ত বেশ মজার একটা জিনিস! কেন জানেন?

আমাদের কাছে যখন দুটো দিক থাকে, যেখান থেকে আমাদের যেকোনো একটা দিক বেছে নিতে হবে তখন আমরা সেটা সবচেয়ে সময় লাগিয়ে করি! আর যখন আমাদের কাছে অনেকগুলো অপশন থাকে তখন আমরা সেটা নিয়ে তাড়াহুড়ো করি!

কারণ আমরা এই সিদ্ধান্তগ্রহণ বিষয়টাকে সিরিয়াসলি নিই না! আর সেজন্যেই যেখানে সময় বেশি নেয়া দরকার সেখানে কম নিই আর যেখানে কম নেয়া দরকার সেখানে বেশি সময় নিই আমরা!

এটা উচিত না আসলে! নিজের সার্ভাইভালের জন্যেও উচিত নয়!

সার্ভাইভাল আরেক মজার জিনিস! এটা নিয়ে অন্যদিন বকবক করা যাবে!

দুনিয়াতে সবচেয়ে কঠিন, খারাপ আর ভয়ংকর কাজটা হয়েছে বা হয় ভুল সিদ্ধান্তের জন্য না-হয় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে দেরী করার জন্য। আর পৃথিবীতে সবচেয়ে সহজ, ভালো আর উত্তম কাজটাও হয়েছে সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য কিংবা ভুল সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে বেশি সময় নেয়ার জন্য।

আচ্ছা, যারা আপনাকে নেগেটিভ করছে বা আপনার সাথে নেগেটিভ বিহেইভ করছে, তাদের ‘কী লাভ হচ্ছে’ সেটা চিন্তা করা বাদ দিয়ে; ‘কেউ সাপোর্ট করে না’ এই সুন্দর ফ্যাক্টটা মেনে নিতে সমস্যা কোথায়?

মেনে নিন ব্রাদার!

এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সতের হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীকে মার্কেটিং, কন্টেন্ট, ব্যবসা আর সেলস নিয়ে আমি ক্লাস করিয়েছি; তাও মাত্র বছর খানেকের ভেতরেই। এই সতের হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী এখন মাসে কমপক্ষে ৫০০০ টাকা থেকে শুরু করে মাসে প্রায় লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করছে! কেউ কেউ ভালো ভালো পজিশনে চাকরি করছে। কেউ কেউ ব্যবসা দিয়েছে, কেউ কেউ নিজেদের ব্র্যান্ড দাঁড় করিয়েছে।

মাত্র ৯৯৯ টাকায় আমার কোর্সের অফার সারাবছর চলছে!

আপনি নিয়েছেন? নিয়েই দেখে ফেলুন! ঠকবেন বলে মনে হচ্ছে না!

আপনি কি করছেন? কেন সিদ্ধান্তটা নিতে দেরী করছেন?

ভুলটা যখন করেই ফেলবেন তখন আর সেটা থেকে পেছনে যেতে পারবেন না! কারণ, মানুষ অতীতে যায় না; সে বর্তমানের ‘নুন খেয়ে’ ভবিষ্যতে যেতে চায়!

আজকেই সিদ্ধান্ত নিন! আজকেই ঠিক করুন কি করবেন! আজকেই রুটিন করুন কালকের দিনটা বা তারপরের দিনটা বা তারপরের দিনটা কেমন যাবে! কিভাবে যাবে? পকেটে কত টাকা এসে ঢুকবে আর পকেট থেকে কত টাকা বের হবে!

সবকিছু আজকেই ঠিক করুন! আজকে মানে আজকেই, কালকে নয়, পরশু নয়, তারপরের দিনও নয়!

যারা লাইফে ভুল সময়ে কল দিচ্ছে আপনাকে, তাদের জন্য বাউন্ডারি করুন! তাদেরকে সেই বাউন্ডারির বাইরে রেখে ট্রিট করুন। এতে লং রানে আপনার লাভ বৈ ক্ষতি হবে না!

 

 

আমাদের লাইফের মিউট বাটনটা কোথায় জানেন?

ব্যাড নিউজ হচ্ছে, আমাদের লাইফের ডিফল্ট কোনো মিউট বাটন নেই! আর গুড নিউজ হচ্ছে, আপনি সেই মিউট বাটনটাকে তৈরি করতে পারবেন!

কিভাবে?

ক্রিয়েট অ্যা বাউন্ডারি! দ্যাটস ইট!

আপনার চেনাজানা প্রত্যেকটা মানুষের জন্য নিজস্ব বাউন্ডারি তৈরি করুন! তাদের সেই বাউন্ডারি পার হতে দেবেন না। তাদের সেই বাউন্ডারি ডিঙিয়ে আপনার জীবনে আসতে দেবেন না! কখনোই না!

নিজের মাঠ, নিজের বাউন্ডারি, নিজের ব্যাট-বল; ছক্কা আরেকজন কেন মারবে?

স্টে পজিটিভ স্টে স্ট্রং!

By Muntasir Mahdi

Author, Marketer, Entrepreneur, Content Creator

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *