সংক্ষেপে ডেমনোলজি

ডেমন (Demon) শব্দের বাংলাই হচ্ছে জ্বীন (Djinn/Jinn/D Jinn)। ডেমনোলজি (Demonology) একটা সাবজেক্টের নাম যেখানে মূলত ডেমন/জ্বীনদের নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা হয়।

 

এখন কথা হচ্ছে, আপনি যখন ডেমন বা ডেমনোলজি নিয়ে কথা বলবেন বা আলোচনা করবেন, তখন আপনাকে অবশ্যই কোনো না কোনো ধর্মের দিক থেকে সেটাকে দেখতে হবে।

আপনি যদি মুসলিম হয়ে থাকেন, তাহলে কোরান আর হাদিসে ডেমনোলজিসম্পর্কে যা যা বলা হয়েছে, সেটাই আপনাকে মেনে নিতে হবে। আপনি যদি হিন্দু হয়ে থাকেন, তাহলে বেদসহ অন্যান্য শৈবরা এই ডেমনোলজি নিয়ে কি বলে থাকেন, সে বিষয়ে ধারণা রাখতে হবে। আপনি যদি স্যাটানিস্ট হয়ে থাকে, তাহলে স্যাটানিজমে (Satanism) ডেমনদের সাথে কিভাবে আচরণ করা হয়েছে সে সম্পর্কে বুঝতে হবে। একইভাবে প্রত্যেক ধর্মানুসারেই ডেমন সম্পর্কে আলোচনা আর মতামত ভিন্ন ভিন্ন।

বুঝতে পারছেন?

 

Demonology in Practice
Demonology in Practice

আমি সেটা বলে দেবো না যে, আপনি জ্বীন সম্পর্কে কি ধারণ রাখবেন আর আদৌ বিশ্বাস করবেন কি না।

মনে রাখবেন, শুধুমাত্র নাস্তিকরাই বিশ্বাস করে না ডেমন বা জ্বীনে। অবশ্য নাস্তিকরা তো কোনো সুপারন্যাচারাল অস্তিত্বেই বিশ্বাস করে না।

কেন? কারণটা যেকোনো নাস্তিকদের জিজ্ঞেস করলেই হবে। আর আস্তিকদের জিজ্ঞেস করলে, তারা আপনাকে তাদের বিশ্বাস আর ধর্মানুসারে বর্ণনা করবে, ডেমন বা জ্বীন সম্পর্কে।

আমি এই বিষয় নিয়ে বকবক করতে চাচ্ছি না। আমি মূলত ডেমনোলজি নিয়ে কিছু ভুল ধারণাকে বের করতে চাচ্ছি। ডেমনোলজি সম্পর্কে অন্যান্য ধর্মের মানুষের বেশ কিছু ভুল ধারণা রয়েছে, যেগুলো সম্পর্কে হালকা কিছুটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা করবো।

এই প্যারাগ্রাফের পর থেকে যাই লেখা হবে, সবকিছু ডেমনোলজির দিক থেকে লেখা হবে। আপনার বিশ্বাস নিয়ে কোনো যুক্তিতর্ক এই অংশের পরে দেখাতে আসবেন না। নিজেদের বিশ্বাস নিজের কাছে রাখুন, আরেকজনকে তার বিশ্বাস নিয়ে থাকতে দিন। আপনার ধর্ম থেকে আপনি যেমন জ্বীন বা ডেমনকে প্রুভ করতে পারবেন না, তেমনি সেও পারবে না এই বিষয়টাকে প্রুভ করতে। সবকিছুই বিশ্বাস, আর বিশ্বাস মানেই আপেক্ষিক!

অন্য ধর্মে (বেশিরভাগ) ডেমন মূলত খারাপের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ডেমনোলজিতে ডেমনদের ইশ্বর হিসেবে দেখা হয়।

ডেমনোলজিতে ইশ্বর দু ধরণের। এক ধরনের ইশ্বর হচ্ছে ‘হাইয়ার লেভেল গড’ আর আরেকধরনের ইশ্বর হচ্ছে ‘লেসার লেভেল গড!’ আর ডেমনরা মূলত সেই লেসার লেভেলের গড

ডেমন শব্দটা গ্রীক শব্দ ‘ডেইমন/Daemon’ থেকে এসেছে, যেটাকে ডেমনোলজিস্টরা ওভাবেই বর্ণনা করেন; যার মানে হচ্ছে ‘জ্ঞানের বন্যা!’
ডেমনিক শব্দের মানে বেশিরভাগ ধর্মের কাছেই, খারাপ কিছু একটা। কিন্তু ডেমনোলজিতে ডেমনিক (Demonic) শব্দের মানে হচ্ছে, ডেমনের মতো কোনোকিছু একটা!

ডেমোনিয়াক বা ডেমোনিক পোসেশন (Demonic Possession) শব্দের মানে বেশিরভাগ মানুষের কাছে, ‘জ্বীন ভর করা!’ কিন্তু ডেমনোলজিতে এর মানে দাঁড়ায়, ডেমনকে নিজের মধ্যে প্রবেশ করানো।

 

Demonic Possession
Demonic Possession

 

ডেমনোলজিতে আরো বেশ কিছু শব্দ ব্যবহৃত হয়, যেমনঃ
ডেমনোক্র্যাসি (Demonocracy), বিভিন্ন ধরনের ডেমনদের শ্রেণীবিভাগ।
ডেমনোগ্রাফার বা ডেমনোলজিস্ট (Demonographer or Demonologist), যে ডেমনদের ইতিহাস, তাদের ডাকার নিয়ম, তাদের বিভিন্ন তথ্য এবং তাদের বর্ণনা সম্পর্কে পড়াশোনা করে ও সেগুলোকে টুকে রাখে।
ডেমনোগ্রাফি (Demonography), ডেমনোগ্রাফারদের কাজই হচ্ছে ডেমনোগ্রাফি।
ডেমনোল্যাটর (Demonolator), যে ডেমনদের উপাসনা করে।
ডেমনোল্যাট্রি (Demonolatry), ডেমনোল্যাটরদের ধর্ম। খেয়াল করুন, ডেমনোলজি কিন্তু ধর্ম নয়, ধর্ম হচ্ছে ডেমনোল্যাট্রি।
ডেমনোম্যান্সি (Demonomancy), যে ডেমনদের ডাকতে পারে ও তাদের থেকে সাহায্য নিতে পারে।

 

 

তো, এক কথায় ডেমনোল্যাট্রি হচ্ছে ‘ডেমনদের পুঁজোআচ্চা!’

এটা প্রায় হাজার হাজার বছর পুর্ব থেকেই চলে আসছে। ডেমনোলজিতে যাদেরকে পুঁজো করা হয়, অর্থাৎ ডেমনরা; তারা মূলত বিভিন্ন ধর্ম ও জাতির বিভিন্ন ধরনের ইশ্বর। যেমন, রোমান, গ্রিক, মিশরীয়, সুমেরিয়ান ইত্যাদি জাতির ইশ্বরদেরই বেশ কিছু ধর্ম ডেমন বলছে আর তারাই ডেমনোলজিতে ডেমন-গড হিসেবে পূজিত হয়ে আসছে।

ডেমনোল্যাট্রির একটি বিশেষ পয়েন্ট হচ্ছে, প্রত্যেক পজিটিভ ডেমনের জন্য একজন নেগেটিভ ডেমন থাকবে।

যেমন, কিছু ডেমন রয়েছে যারা ভালবাসা ও সুস্থতার কাজ করে; যারা মূলত পজিটিভ ডেমন। আবার কিছু ডেমন রয়েছে যারা ঘৃণা ও ধ্বংসের কাজ করে; এরা নেগেটিভ ডেমন।

ডেমনোল্যাট্রিতে বিশ্বাস করে এমন দুটো গ্রুপ রয়েছে অর্থাৎ দু ধরণের ডেমনোল্যাটর রয়েছে।

প্রথম ধরনের ডেমনোল্যাটররা হচ্ছেন, থিয়েস্টিক ডেমনোল্যাটর (Theistic Demonolator)। এদের মতে, ডেমন সত্যিকার অর্থেই রয়েছে, যারা পৃথিবীকে কন্ট্রোল করছে ও এরাই সর্বশক্তিমান ইশ্বর।

আর দ্বিতীয় ধরণের ডেমনোল্যাটর হচ্ছেন, মডার্ণ ডেমনোল্যাটর (Modern Demonolator)। যাদের অ্যাথিয়েস্টিক ডেমনোলেটরও (Atheistic Demonolator) বলা যেতে পারে! এদের মতে, ডেমন বলতে আসলে কিছুই নেই। ডেমনরা মূলত এক ধরনের পিউর এনার্জি বা লাইফ ফোর্স, যারা ইমোশন ও আইডিয়ার সাথে জড়িত।

 

একটা বিশেষ কথা, ডেমনোলজিতে সকল ডেমনদের মধ্যে সর্বশক্তিমান একজনকেই দেখা হয়, আর সেটা হচ্ছে স্যাটান বা শয়তান (SATAN)। কিন্তু স্যাটানিজমের সাথে ডেমনোল্যাট্রির কোনো মিল নেই। স্যাটানিজমের স্যাটান আর ডেমনোল্যাট্রির স্যাটান সম্পূর্ণ আলাদা বিষয় ও আলাদা ইশ্বর। যেভাবে ইসলাম ধর্মমতে, শয়তান/স্যাটান হচ্ছে, সবচেয়ে ভয়ংকর শত্রু মুসলিমদের; অন্যদিকে স্যাটানিজমে শয়তান/স্যাটান মূলত একমাত্র ইশ্বর!

 

Satan
Satan/Lucifer/Shaitan

 

ডেমনোল্যাট্রির ইতিহাস নিয়ে কিছু বকবক করা যাক। কেমন?

৩০০০ বিসিতে, মিশরের এক ইশ্বর ‘থট (Thoth)’ সর্বপ্রথম এই ডেমনোলজি নিয়ে কিছু কথা লিখে গিয়েছিলেন যা মিশরীয়, গ্রিক, রোমান, ক্যানানাইট এবং অ্যামোরাইটরা পালন করতে শুরু করে।

তারপর ২৫০০ বিসিতে, অ্যামোরাইটরা ডেমন ‘বেরিথ (Berith)’ ও ক্যানানাইটরা ডেমন ‘বায়েল (Bael)’কে পূজা করতে শুরু করে। তারপর সেখান থেকে মন্ত্র চালু হয়, যা ১৯২৯ সালে সর্বপ্রথম র‍্যাড শামারা নামক এক জায়গায় খুঁজে পাওয়া যায়।

১০০-৪০০ এডির মধ্যে, কিং সলোমনের (King Solomon) জ্বীন বশ করার পদ্ধতি সম্পর্কে জানা যায়। সেখানে ডেমনদের ডাকার নিয়ম, তাদের সাথে কথা বলার নিয়ম এবং তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করার নিয়ম সম্পর্কে বিশ্লেষণাত্মকভাবে লেখা হয়।

১১৯৯ এডিতে, স্যাটান বা শয়তানকে পুজো করা শুরু হয়। আমি আবারো বলছি, স্যাটানিজমের সাথে ডেমনোল্যাট্রির কোনো মিল নেই।

১৯৬৩ এডির দিকে, সর্বোমোট ৭২ জন ডেমনের নাম জানা যায়। তাদের সবকিছু সম্পর্কে বেশ ভালো আঁচ পাওয়া সম্ভব হয়। এই ৭২ ডেমনের একটা লিস্ট অন্যদিকে বর্ণনা করবো!

১৯৯৭ সালে সর্বপ্রথম, ডেমনোল্যাট্রি কমিউনিটি তৈরি হয়।

১৯৯৮ সাল থেকে, ডেমনোল্যাটরদের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

১৯৯৯ সালে মডার্ন ডেমনোল্যাটরদের জন্ম হয়।

২০০০ সালে ডেমনোল্যাটরদের মন্দির স্থাপিত হয়, আমেরিকাতে।

২০০১ সালে, ডেমনোল্যাটরদের গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। তাদেরকে ভুল বুঝে, তাদের ধর্ম সম্পর্কে ভুল ধারণা নেয়ার ফলে কিছু ধর্মান্ধ মানুষ তাদের মন্দির ভেঙে ফেলে ও তাদেরকে লুকিয়ে পড়তে বাধ্য করে।

এই হলো ডেমনোল্যাট্রির ইতিহাস।

একটা বিশেষ পরিসংখ্যানের থেকে (বাংলাদেশের একটা সিক্রেট অর্গানাইজেশনের পক্ষ থেকে করা হয়েছে) জানা গিয়েছে যে, বাংলাদেশে ডেমনোল্যাটরদের সংখ্যা আনুমানিক হাজারের কাছাকাছি।

ব্ল্যাক ম্যাজিক নিয়ে জানতে চাইলে এই আর্টিকেলগুলো পড়ে ফেলতে পারেনঃ

By Muntasir Mahdi

Author, Marketer, Entrepreneur, Content Creator

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *