যা হয়, ভালোর জন্য হয়

গতকাল রাতে কোনো এক পোস্টের কমেন্টে রিপ্লাই করেছিলাম,
‘যা হয়, ভালোর জন্যে হয়!’
শুধু বলতে হবে বলেই নয়, বরঞ্চ আমি মনেপ্রাণে এই উক্তিটা বিশ্বাস করি!
একজন আমার রিপ্লাই পড়ে, ইনবক্সে আমাকে অনেক বিশ্লেষণ করে বোঝালেন যে, উনি কেন বিশ্বাস করেন না এই উক্তিতে!
নাম উল্লেখ না করে, উনার রিপ্লাইটা আপনাদের পড়তে দিচ্ছি! তারপর, আমি বলছি, কেন আমি এই বিষয়টাতে বিশ্বাস করি!
যা হয় ভালোর জন্যে হয়! ভাই, আপনার এই কথাটার সাথে কেন জানি না, আমি একমত হতে পারছি না। এমন অনেক খারাপ কিছু হয়ে যায় যার বিনিময়ে কিংবা প্রতিফলনে আমরা অন্য কিছু একটা পাই।
কিন্তু জীবনে অল্প বয়সে এমন একজন মানুষকে হারিয়েছি যে, এখন আমার প্রতিটি পদক্ষেপে তার প্রয়োজন অনুভব হয়। যখন চারদিকে অন্ধকার দেখি, নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় মানুষটি মনে হয় তখন তার কথা আমার ভিষণ মনে পড়ে। অসহায়ত্বের কারণে আমি রুমের দরজা বন্ধ করে নিঃশব্দে চিৎকার করে কেদেছি। এখনো কাদি মাঝে মাঝে…
আমি জীবনের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ একজনকে অসময়ে হারিয়েছি। তার খেসারত আমাকে প্রতিটি ধাপে ধাপে দিতে হচ্ছে। ইশ্বরের কাছে আমার অভিযোগ, তিনি কেন আমার সাথে এমনটি করলেন?! এখানে অভিযোগটা মোখ্য নয়! স্বিকার করছি উচিতও নয়। কিন্তু আমার সাথে যা হয়েছে সেটা কোন দিক থেকে, কতটুকু ভালো হলো?
ভালো কিছুটা হয়েছে বটে। তবে এই ভালোটা না হলেও হয়তো আমার কিছু যেত-আসত না!
পড়লেন?

 

Good vibes only

আপনারও নিশ্চয়ই এই জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত এসেছে, যখন আপনার কাছেও এই ছেলেটার মতোই মনে হয়েছে, আসলেই কি যা হয়, ভালোর জন্য হয়? এটা কি সত্য নাকি জাস্ট আমাদের স্বান্তনা দেয়ার জন্য বলা হয়?
চলেন অস্ত্রোপচার করি!
প্রথমেই উক্তিটাকে ‘সাইকোলজি’ দিয়ে ভাঙি, কেমন?
সাইকোলজি বিদঘুটে একটা বিষয়। এটাতে এমন অনেক বিষয়/উক্তি/ফেনোমেনন আছে; যেগুলো একটা আরেকটাকে কন্ট্রাডিক্ট করে!
ডিটারমিনিজম সাইকোলজি, নামে সাইকোলজির একটি বিশাল সাবজেক্ট রয়েছে, যেটাকে অনেক সাইকোলজিস্টই বলে থাকেন – সাইকোলজির ফিলোসফি!
ডিটারমিনিজম সাইকোলজি অনেকগুলো সাবক্যাটাগরিতে বিভক্ত, যেগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে, মেটাফিজিক্যাল ডিটারমিনিজম।
মেটাফিজিক্যাল ডিটারমিনিজম অনুসারে, যা হয় তা কোনো না কারণে হয় এবং সেটার প্রয়োজন আছে বলেই হয়।
তাহলে কি দাঁড়াচ্ছে?
যদি প্রয়োজন না থাকতো তাহলে আপনার গার্লফ্রেন্ড আপনাকে ছেড়ে যেত না! প্রয়োজন ছিল বলেই, চলে গিয়েছে!
যদি প্রয়োজন না থাকতো তাহলে আপনি বাইক থেকে পড়ে অ্যাক্সিডেন্ট করতেন না! প্রয়োজন ছিল বলেই, করেছেন!
যদি প্রয়োজন না থাকতো তাহলে আপনার ডিভোর্স হতো না! প্রয়োজন ছিল বলেই, হয়েছে!
… যদি প্রয়োজনেই সবকিছু হয়, তাহলে সেটা কি ভালো নয়?
আপনার এখন ইয়ারফোন কেনার প্রয়োজন। এই প্রয়োজন মিটলে, আপনার ভালো হবে না?
তাহলে সাইকোলজি এবং ফিলোসফি; দুটোই আমাদের বলে দিচ্ছে – কেন যা হয়, তা ভালোর জন্যে হয়!
এই বিষয়টাকে আমরা সাধারণত কি নামে চিনি, জানেন?
পজিটিভ থিংকিং!
পজিটিভ থিংকিং মানে প্রত্যেক দিন, ‘স্টে পজিটিভ স্টে স্ট্রং’ জপতে থাকা নয়। পজিটিভ থিংকিং মানে সারাদিন ভালো ভালো চিন্তা করা নয়। পজিটিভ থিংকিং মানে নেগেটিভ চিন্তাগুলোকে দূরে সরিয়ে দেয়া নয়।
পজিটিভ থিংকিং মানে, সবসময় এই বিশ্বাস রাখা – যা হয়, তা ভালোর জন্য হয়!
ক্লিয়ার?
চলুন এবার ধর্মের দিকে এগুই! দেখি, ধর্ম কি বলছে!
ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসীরা, বিশ্বাস করেন যে, আলহামদুলিল্লাহ, যা হয়, তা ভালোর জন্যেই হয়।
প্রতিদিনই তো কত খারাপ কিছু হচ্ছে, তাই না?
আজ্ঞে না!
ইসলাম ধর্মমতে, সেই খারাপের মাঝেও আল্লাহ কিছু না কিছু ভালো রেখেছেন, যা আমাদের চিন্ত-ভাবনার বাইরে!
আপনার ফোনের ব্যাটারি ছাড়া ফোন চলবে? আপনার চার্জ লাইটের ব্যাটারি ছাড়া লাইট জ্বলবে? আপনার কম্পিউটার, ব্যাটারি ছাড়া চলবে?
উঁহু!
আমাকে বলতে পারবেন, আপনার ব্যাটারি কোনটা?
আজ্ঞে হ্যাঁ! আপনার সোল, আত্মা, রূহ!
রূহ ছাড়া আপনি চলতে পারবেন?
আমার মনে হয় না!
ব্যাটারি তো চার্জে চলে; অর্থাৎ, ব্যাটারির খাবার চার্জ/বিদ্যুৎ!
রাইট?
আপনার ব্যাটারির অর্থাৎ আপনার রূহের খাবার কী?
আপনার পজিটিভ এবং নেগেটিভ থিংকিং!
বিদ্যুতের যেমন, পজিটিভ এবং নেগেটিভ চার্জ থাকে। শুধু পজিটিভ চার্জ দিয়ে যেমন ব্যাটারি চার্জ হয় না; ঠিক তেমনি শুধুমাত্র পজিটিভ থিংকিং বা পজিটিভ চয়েস থাকলেই আপনার রূহ চার্জ হবে না!
আপনার রূহকে চার্জ করার জন্য, নেগেটিভ থিংকিং বা নেগেটিভ সিচুয়েশনগুলো ইম্পোর্টেন্ট, প্রয়োজনীয়!
তাহলে?
যা হয়, তা আসলেই কোনো না কোনো কারণে হয় এবং সেই কারণটা আপনাকে কোনো না কোনোভাবে, কিছু না কিছু শিখিয়ে বা বুঝিয়ে বা দেখিয়ে বা জ্ঞান দিয়েই যাবে বা যায়!
আর এই বিষয়টাকে ছোটবেলা থেকে আমরা শিখে আসছি, কি নামে বলতে পারবেন?
ইয়াপ!
বাস্তবতা, রিয়্যালিটি!
বাস্তবতায়, ভালো-খারাপ সবই হয়।
প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে, ঘুমোতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রত্যেকেই কোনো না কোনো সিচুয়েশনের সম্মুখীন হোন- যেগুলো আসলে আপাতদৃষ্টিতে তাদের কাছে অনেক অনেক অনেক বাজে সিচুয়েশন বলে মনে হয়।
আমাদের অ্যাক্সিডেন্ট, আমাদের কাছের মানুষের মৃত্যুগুলো, আমাদের প্রিয় মানুষের দূরে চলে যাওয়াগুলো – সবকিছুই বাস্তবতা শিখিয়ে দিয়ে যায় আমাদের। আর বাস্তবতাই আমাদের স্পিরিচুয়াল বডিকে আরো শিক্ষিত, আরো জ্ঞানী এবং আরো উন্নত করে তোলে।
কারণ ভুলে যাবেন না, আপনি যতটা ফিজিক্যাল তারচেয়ে বেশিই স্পিরিচুয়াল!
কারণ, আপনার ব্যাটারি (রূহ) কি দিয়ে তৈরি সেটা পৃথিবীর কোনো বিজ্ঞানীও এখন পর্যন্ত আবিষ্কার করতে পারলেন না!
খুঁজে পেলে জানাবেন, ওকে?
বুখারী শরিফের একটা হাদিসে মহানবী (সঃ) এর একজন সাহাবী উল্লেখ করেছিলেন,
There is no illness that afflicts me more beloved to me than fever; it enters every part of me and [because of it] Allah the Mighty and Sublime gives every part of me its share of reward” (narrated by Bukhari in Al-Adab Al-Mufrad).
সো, স্টে পজিটিভ, থিংক পজিটিভ অ্যান্ড সে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ফর এভ্রিথিং!
রেকমেন্ডেড আর্টিকেলসঃ

By Muntasir Mahdi

Author, Marketer, Entrepreneur, Content Creator

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *