অ্যানা অকলন্ডের গল্প

অ্যানা অকলন্ড!

১৯১২ সালের দিকে যখন তার বয়স মাত্র ১৪, তখন তার মাঝে এই সমস্যা দেখা দেয়। সমস্যাগুলো হচ্ছে, সে শুধুমাত্র জিহবা দিয়ে কথা বলা, অস্পষ্ট এবং গম্ভীর ভাষায় কথা বলা, দেয়াল ধরে ভাসতে থাকা, সিলিং বেয়ে উঠানামা করা, খাওয়ার রুচিতে পরিবর্তন আসা ইত্যাদি।

তার এই সমস্যা এতটাই ভয়াবহ ছিলো যে, বেশ কয়েকজন প্রিস্টের পরে একজন বিশেষ এবং বিখ্যাত প্রিস্ট ফাদার থিওফিলাস রাইসিঙ্গারকেও এই সমস্যার কাছে হার মানতে হয়েছে।

 

The Exorcism Of Anna Ecklund
The Exorcism Of Anna Ecklund

বাই দ্যা ওয়ে, যারা এখনো বুঝেন নি সমস্যাটা কোথায়, তাদের বলি, সমস্যাটা হচ্ছে ডেমোনিক পোজেশন। অর্থাৎ, অ্যানা ডেমোনিক স্পিরিট দ্বারা পোজেসড হয়েছিলো।

ঘটনায় ফিরে যাওয়া যাক!

যখন সব দেশসেরা প্রিস্ট আর এক্সোরসিস্টরা অ্যানার এক্সোরসিজম করতে ব্যর্থ হলো, তখন এক ইহুদী এক্সোরসিস্টের থেকে জানা গেলো যে, অ্যানা আসলে অভিশপ্ত। অর্থাৎ, অ্যানার এই সমস্যার কারণ হচ্ছে অ্যানাকে কেউ একজন অভিশাপ দিয়েছে।

 

ব্ল্যাক ম্যাজিক নিয়ে আরো পড়ুন এখানেঃ ব্ল্যাক ম্যাজিকঃ দ্য ডার্ক আর্টস

১৯০৮ সালে অ্যানার বাবা ও অ্যানার খালা, অ্যানাকে অভিশাপ দিয়েছে। অ্যানার খালা ছিলেন একজন ম্যাজিশিয়ান (উইচ)। যিনি অ্যানার বাবাকে পছন্দ করতেন। আর অ্যানার বাবাও অ্যানার খালাকে পছন্দ করতেন। অ্যানার খালা বিশেষ এক ধরনের স্পেলড হার্ব অ্যানার খাবারে মিশিয়ে দিয়েছিলেন।

যে স্পেলের মূল লক্ষ্য ছিলো, একটি বিশেষ কার্সড (অভিশপ্ত) ডেমনকে অ্যানার মাঝে এনে মুক্ত করে দেয়া। অ্যানার বাবা ডায়েরী লিখতেন আর এই ডায়েরী থেকেই এই ঘটনার সত্যতা প্রমাণ পাওয়া যায়। ডায়েরীটি ১৯৩৬ সালে জনসম্মুখে পাবলিশ করা হয়।

অ্যানার প্রথম এক্সোরসিজম করা হয় ১৯১২ সালে। যদিও সেটা আংশিক সফল হয়। কিন্তু ১৯২৮ সালের দিকে অ্যানা একের অধিক ডেমন দ্বারা পোজেসড হয়। সে জন্যে দ্বিতীয়বার এক্সোরসিজম করা হয় তিনটি ধাপে। সেটাও আংশিক সফল হয়।

অ্যানার শেষজীবনের দিকে যদিও আর কখনো তার এক্সোরসিজম হয় নি কিন্তু সে আর সঠিকভাবে কখনো তার জীবনযাপন করতে পারে নি। ১৯৭৬ সালের দিকে অ্যানা মারা যায়। দূর দুরান্ত থেকে অ্যানাকে অনেক ডাক্তার এবং সাইকোলজিস্টরা দেখতে আসে।

সাইকোলজিস্টদের মতে অ্যানা এপিলেপটিক সাইকোসিস, ডিপ্রেশন, ভিজ্যুয়াল এবং অডিটরি হ্যালুসিনেশনে ভুগে মারা গিয়েছেন। আর ডাক্তারদের মতে অ্যানা আইমেসিয়েশন, ম্যালনিউট্রেশন, স্টারভেশনের কারণে মারা যায়। এটাকে ডাক্তাররা খুন হিসেবেও ব্যখ্যা করেছেন।

‘তাহলে অ্যানা বাতাসে ভাসলো কীভাবে!’, এই প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেক ডাক্তার এবং সাইকোলজিস্টরা এড়িয়ে গিয়েছেন।

আপনার মতামত কী?

By Muntasir Mahdi

Author, Marketer, Entrepreneur, Content Creator

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *