কীভাবে স্টার্টআপ আইডিয়া তৈরি করবেন

শুরুতেই বকর বকর করে এই পোস্টকে দীর্ঘ করার কোনও মানেই হয় না। তাই, মূল কথায় চলে যাচ্ছি সরাসরি!

উদ্যোক্তা কী, আইডিয়া কী এসব নিয়ে আগেও অনেক কথা বলেছি। তারপরেও আজকে যেহেতু আমরা আইডিয়া তৈরীর নিয়ম জানতে যাচ্ছি এবং একই সাথে স্টার্টআপ আইডিয়া কীভাবে জেনারেট করতে হয় সেটাও যেহেতু জেনে নেবো, সেহেতু ‘আইডিয়া কী’ সেটা আরেকবার বলে নিই!

বিজনেস আইডিয়া বা স্টার্টআপ আইডিয়া

আইডিয়া বা বিজনেস আইডিয়া বা স্টার্টআপ আইডিয়া হচ্ছে এমন একটি কনসেপ্ট যেটি অর্থনৈতিক অবস্থান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়, যেটা মূলত কোনো প্রোডাক্ট/পণ্য কিংবা সার্ভিস হতে পারে, যা টাকার বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয় করা যায়।

মনে রাখবেন, যেকোন আইডিয়াই হচ্ছে পিরামিডের সেই টুকরো যেটার দ্বারা একটি বিজনেসের প্রথম ধাপ সম্পূর্ণ করা হয়।

 

Ideas are abstract concepts
Ideas are abstract concepts

 

এই আর্টিকেলটি শুরু করার আগে, আপনি চাইলে স্টার্টআপ নিয়ে আমার কিছু কথা, এই আর্টিকেল থেকে পড়ে আসতে পারেন – স্টার্টআপ নিয়ে কিছু কথা

 

স্টার্টআপ আইডিয়া তৈরির ধাপগুলো

প্রথম ধাপ

আইডিয়া তৈরি করার পেছনে কারণ কী?

পৃথিবীতে যাই নতুন তৈরী হয়েছে, নিশ্চয়ই তা কোনো না কোনো সমস্যার সমাধান করার জন্যে তৈরী হয়েছে। চেয়ার, লাইট, ফ্যান, ফেসবুক, টুঁইটার, ইন্সটাগ্রাম ইত্যাদি সবকিছুই কোনো না কোনো সমস্যার সমাধানেই তৈরী হয়েছে।

ঠিক তেমনি আমরাও যখন একটি আইডিয়া তৈরী করতে যাব, তখনই ধরে নিতে হবে আমরা একটা সমস্যার সমাধান করতে যাচ্ছি।

কিন্তু সমস্যার সমাধান করার পূর্বে জানা তো লাগবে যে, সমস্যাটা আসলে কী!

তাই না?

আর সমস্যা কী জানার পূর্বে এটাও তো জানা লাগবে যে, কোন কোন খাতে/ক্যাটাগরিতে সমস্যা রয়েছে!

তার মানে প্রথমে জানা লাগবে, সমস্যার খাত বা ক্যাটাগরি!

পৃথিবীতে যেসকল সমস্যার খাত/ক্যাটাগরি আছে সেগুলোর লিস্ট দিয়ে দিচ্ছি আমি!  এখন পর্যন্ত যত উদ্যোগ নেয়া হয়েছে পৃথিবীতে সবই এই ক্যাটাগরিগুলোর মধ্যেই পড়ে!

 

সমস্যার ক্যাটাগরী

• Law & Security
• Agriculture & Food
• Language
• Life Saving
• Time Saving
• Natural Disaster
Educational
• Money Making
• Green & Safe City
• Health
• Earth
• Private Services
• Government Services
• Workers Services
• Cloth & Garments
• Tele communication
• Marketing
• Community
• Banking, Tax & Finance

 

উপরের এই ক্যাটাগরী গুলোতেই বাংলাদেশসহ, পৃথিবীর যেকোনো দেশের যেকোনো সমস্যা বিদ্যমান।

আমরা তাহলে ক্যাটাগরি বাছাই করবো এবার, যে ক্যাটাগরির সমস্যা আমরা সমাধান করতে যাচ্ছি!

ধরুন, আমরা বাছাই করলাম ‘ল এন্ড সিকিউরিটি ক্যাটাগরি!

 

দ্বিতীয় ধাপ

ক্যাটাগরি বাছাই শেষ!

এবার আসি, সমস্যা বাছাই পর্বে!

‘ল এন্ড সিকিউরিটি’ ক্যাটাগরিতে কি কি সমস্যা আমাদের দেশে রয়েছে?

সেটা নিয়ে আমরা রিসার্চ করতে পারি গুগল থেকে। অনলাইনের এই রিসার্চ করার পর, আমরা ‘ল এন্ড সিকিউরিটি’ সম্বলিত প্রব্লেম/সমস্যা পেয়ে যাবো।

এই রিসার্চ কিন্তু একদিনে হয়ে যাবে না। আপনাকে এই রিসার্চ করার জন্যে সময় দিতে হবে।

‘ল এন্ড সিকিউরিটি’ সম্পর্কে আরো জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে। তাহলে, সমস্যা খুঁজে পাওয়াও অনেক সহজ হয়ে যাবে। গুগল থেকে সমস্যা অবশ্যই পেয়ে যাবেন।

যদি সমস্যা না পান, তাহলে আপনার নিজের লাইফস্টাইলের দিকে খেয়াল করুন।

এমন কোনো ‘ল এন্ড সিকিউরিটি’ জনিত সমস্যায় কি আপনি ভুগছেন, যেটা সমাধান করাটা দরকার?

নিজেকে প্রশ্ন করুন কিংবা নিজের মধ্যে খুঁজে না পেলে; পোল করুন, ভোটের ব্যবস্থা করুন। বন্ধুদের ‘ল এন্ড সিকিউরিটি’ জনিত সমস্যা আছে কিনা, জানার চেষ্টা করুন। কোথাও না কোথাও তো ‘ল এন্ড সিকিউরিটি’ জনিত সমস্যা রয়েছে! সেটা খুঁজে বের করুন।

এমনভাবে খুজুন, যেন আপনাকে এই ‘ল এন্ড সিকিউরিটি’ জনিত সমস্যা খোজারই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। খুঁজে পাবেনই! কারণ, উপরের ক্যাটাগরির প্রত্যেকটিতেই সমস্যা বাংলাদেশে বিদ্যমান। তাই খুজতে থাকুন, পেয়ে যাবেন!

 

Legal Issues
Legal Issues

 

তৃতীয় ধাপ

প্রথম আর দ্বিতীয় ধাপ মিলে আপনি ‘ল এন্ড সিকিউরিটি’ ক্যাটাগরির সমস্যা খুঁজে বের করেছেন।

এবার ঠিক করবেন যে, সেই সমস্যা কীভাবে সমাধান করা যায়!

সমাধানের জন্যে আপনাকে প্রথমত জ্ঞান বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি যেই সমস্যাটি খুঁজে পেয়েছেন সেটা কীভাবে সমাধান করা যায়, তা সম্পর্কে ইন্টারনেটে কিংবা বিভিন্ন খবরের কাগজ হতে কিংবা সরাসরি কোনো মাধ্যম থেকে পড়াশোনা করার চেষ্টা করুন। আরো জানার চেষ্টা করুন। যত জানবেন, তত তাড়াতাড়ি আপনি এই সমস্যার সমাধান খুঁজে পাবেন।

ভুলে যাবেন না, সমস্যা খুঁজে পাওয়া সহজ কিন্তু সমাধান খুঁজে পাওয়া অনেক কঠিন।

তবে, একবার সমস্যা খুঁজে পেয়ে গেলে সেই সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া একেবারেই সহজ হয়ে যায়।

 

চতুর্থ ধাপ

এবার, আপনি সমস্যার সাথে সেই সমস্যার সমাধানও পেয়েছেন।

এবার ঠিক করুন, সেই সমস্যার সমাধান আপনি কীভাবে করতে পারবেন?

মানে, আপনি কি সমস্যার সমাধান কোনো প্রোডাক্টের মাধ্যমে করবেন, নাকি সার্ভিসের মাধ্যমে!

অর্থাৎ, কোনো ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট তৈরি করবেন নাকি কোনো এপ্স অথবা ওয়েবসাইট তৈরী করবেন!

ঠিক করুন, এই সমস্যার সমাধানকে আপনি কীভাবে ইমপ্লিমেন্ট করবেন! আপনি চাইলে এমন কোনো যন্ত্র আবিষ্কার করতে পারেন কিংবা চাইলে কোনো ওয়েবসাইট কিংবা এপ্সের মাধ্যমেও সেই সমস্যার সমাধান করতে পারবেন।

মনে রাখবেন, আইডিয়া যতটা সহজ তার থেকে অনেক কঠিন হচ্ছে, ইমপ্লিমেন্টেশন!

 

পঞ্চম ধাপ

তাহলে, এখন আপনার কাছে সমস্যা আছে, সমাধান আছে এবং সেই সমাধানকে ইমপ্লিমেন্ট করার ব্লু প্রিন্টও আছে।

এখন আপনার যেটা লাগবে সেটা হচ্ছে, মার্কেট রিসার্চ করা।

এবার আপনি মার্কেট রিসার্চ করবেন, আপনি যে আইডিয়াকে ইমপ্লিমেন্ট করে কাজে লাগাতে চাচ্ছেন, সেটা মানুষের কাছে সাড়া পাবে কি-না!

কারণ, আপনার আইডিয়াতে যদি অনেক অনেক টাকা ইনভেস্ট হয়ে যায় কিংবা ইনভেস্টমেন্ট ব্যাপার বাদ দিই, আপনার কষ্ট করে করা এত কাজ (সমস্যা খোঁজা, সমাধান করা তারপর সেটার ব্লু প্রিন্ট করা) যদি বিফলে যায়, তাহলে তো অনেক খারাপ লাগবে তাই না?

তাই, আপনার মার্কেট রিসার্চ করা লাগবে বেশ ভালো ভাবে! দেখা লাগবে যে, আপনি কাস্টোমার, ভিজিটর, ইউজার পাবেন কি না আপনার প্রজেক্টের জন্যে।

 

ষষ্ঠ ধাপ

মার্কেট রিসার্চ করা শেষ হয়ে গেলে আপনার এবার ইনভেস্টর খোঁজার পালা!

এবার আপনার কাজের/প্রজেক্টের জন্যে ইনভেস্টর খোঁজা লাগবে। অনেকের কাছে ইনভেস্টর খোঁজাটা কঠিন মনে হতে পারে কিন্তু আসলে এটা ততটা কঠিন বিষয় নয়!

আপনার এক্ষেত্রে শুধু একটা জিনিসই দরকার! আর সেটা হচ্ছে, কনভিন্স করার দক্ষতা! আপনি যদি ভালোভাবে কনভিন্স করতে পারেন তাহলে আপনি সহজেই ইনভেস্টর খুঁজে পাবেন।

 

 

অনেকেই প্রশ্ন করেন যে “ভাই, আমি ইনভেস্টর খোঁজা শুরু করবো কীভাবে?”

ইনভেস্টর খোঁজার কয়েকটা ধাপ আমি বলে দিচ্ছি নিচে, সেগুলো ফলো করতে পারেন –

• প্রথমে ভালো একটা পিচ/বক্তৃতা তৈরী করুন, যেখানে আপনার প্রজেক্ট সম্পর্কে সহজেই সবাইক বুঝতে পারবে।
• তারপর, আপনার সবচেয়ে কাছের মানুষদের কাছে যান, যারা আপনার কথা শুনবে, বুঝবে।
• বন্ধুদের কাছ থেকে ইনভেস্ট পেলে সবচেয়ে বেশি ভালো হয়, তাই বন্ধুদের টার্গেট করুন।
• বন্ধুদের কাছ থেকে না পেলে, আপনার আত্মীয়দের মধ্যে খুঁজুন।
• আত্মীয়দের মধ্যে না পেলে তারপর, আপনার মেন্টর/বড় ভাই/বোনদের বোঝান যে আপনার আইডিয়া কতটা বেটার আর কতটা লাভ দিতে পারে।
• তারাও না বুঝলে, তারপরে চলে যান কিছু বিভিন্ন ইনভেস্টর ওয়েবসাইটে। যেখানে ইনভেস্টররা আপনার জন্যে বসে আছে। আপনার আইডিয়া শোনার জন্যে। এমন ওয়েবসাইটের সংখ্যা গুগলে অনেক আছে। খুজলেই পেয়ে যাবেন।

 

ইনভেস্টর তাহলে পেয়েই গেলেন!

 

সপ্তম এবং শেষ ধাপ

এবার আপনি স্ট্রং টেকনিক্যাল টিম তৈরী করুন, স্ট্রং মার্কেটিং টিম করুন এবং কাজ শুরু করে দিন।

 

 

 

বাংলাদেশে উদ্যোক্তার অনেক অভাব। নতুন নতুন উদ্যোগ নিন আর উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়াতে সহায়তা করুন। চাকরী খোজাতে নয়, চাকরী তৈরীর মন মানসিকতা গড়ে তুলুন!

Published
Categorized as Business

By Muntasir Mahdi

Author, Marketer, Entrepreneur, Content Creator

2 comments

  1. Hi there everybody, here every one is sharing these knowledge, so it’s good to read this web
    site, and I used to go to see this website everyday.

  2. you’re in reality a just right webmaster. The website loading velocity is incredible.

    It kind of feels that you’re doing any distinctive trick. Furthermore, The contents are masterpiece.
    you’ve performed a excellent job on this topic!

    Thank you, Mahdi.

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *