হিউম্যান সাইকোলজি নিয়ে কিছু কথা

জানেন কি, একজন সাধারণ মানুষ গড়ে প্রত্যেকদিনে ৪ টা মিথ্যা কথা বলে! মানে বছরে প্রায় ১৪৬০ টা মিথ্যা কথা বলে!

আরেকটা মজার তথ্য হচ্ছে যাদের শরীরে টেস্টোস্টেরন বেশি, তারা মানুষকে রাগিয়ে আনন্দ পায়!

রাগের কথায় মনে পড়লো…!

আমি অনেকদিন ধরে রাগী না! আসলে রাগতে পারি না। আমার রাগ সহজেই উঠে যায়, যার ফলে সহজেই নিভে যায়। আমি হাতে মারার মানুষ নই। আপনি আমার ক্ষতি করেছেন মানে আপনাকে সেটা মৃত্যুর পরে হলেও ভুগতে হবে। জোঁকের মতো আমি লেগে থাকতে পারি। এতে করে রাগ হয় না আর। কিন্তু প্রতিশোধ নিই না সেটা ভুল কথা।

 

Human Psychology
Human Psychology

 

তো যেটা বলছিলাম!

আপনার রাগ নিয়ন্ত্রণের একটা দীর্ঘমেয়াদি সল্যুশন হচ্ছে ধ্যান করা।

কিন্তু আমাদের দরকার ইন্সট্যান্ট সল্যুশন তাই না?

রাগের সময় আমাদের মুখের মাসলগুলোকে পরিবর্তন করলে রাগ আর থাকে না!

ধরুন, আপনি প্রচন্ড রেগে আছেন। একবার শুধু হাই তুলুন কিংবা হা করে থাকুন কয়েক সেকেন্ড অথবা মিছেমিছি হাসার চেষ্টা করুন। দেখবেন রাগ আর থাকবে না!

রাগ কিন্তু শুধুমাত্র একটা ইমোশন নয়, রাগের সাথে বায়োলজিক্যাল সাইকোলজি বা নিউরো সাইকোলজি জড়িত। যার ফলে আপনার মুখের মাসল কুঁচকে যাওয়ার ফলে রাগের তেজ ততটা থাকে না।

বাই দ্যা ওয়ে, মার্কেটিংয়ের সাথে হিউম্যান সাইকোলজি এর সম্পর্ক অনেক! আর সেটা নিয়ে আমি প্রায় কয়েক বছর বেশ গবেষণার পর এই বইটি লিখেছি! বিশ্বাস করবেন না, আমি নিজেও প্রথমে বিশ্বাস করতে পারি নি যে, আমার লেখা প্রথম কোনো বই একেবারে একুশে বইমেলা ২০২০ এ, রকমারী বেস্ট সেলার হিসেবে আখ্যায়িত হয়! বইটি পাবেন এখানেঃ ব্রেইনফ্লুয়েন্সঃ দ্য সাইকোলজি অব মার্কেটিং

 

Brainfluence: The Psychology of Marketing
Brainfluence: The Psychology of Marketing

 

মানুষ বিভিন্ন কারণে রেগে যেতে পারে। আপনার শরীরে যদি অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয় তাহলে আপনার কোনো কারণ ছাড়াই রাগ উঠতে পারে। একইভাবে ডিহাইড্রেশন, অতিরিক্ত তাপ, বিরক্তি ইত্যাদির কারণেও রাগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শুধুমাত্র রাগের কারণেই আপনার হার্ট অ্যাটাক হতে পারে কিংবা ব্রেইন স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ধরুন, আপনি খুব কষ্ট পেয়েছেন। খেয়াল করে দেখুন, বিরক্তি না কিন্তু কষ্ট পেয়েছেন, ইমোশিনালি!

এক্ষেত্রে কি আপনার রাগ আসবে?

উঁহু!

শুধুমাত্র ইমোশনাল পেইনে মানুষ রাগে না। ইমোশনাল পেইনের সাথে আরো কিছু ক্যাটালিস্টের দরকার পড়ে।

এখন ধরুন, আপনার এক্স গার্লফ্রেন্ড কিংবা বয়ফ্রেন্ডের সাথে আপনার মাত্রই ব্রেক আপ হলো। এখন আপনি ইমোশনাল পেইনে আছেন। এই অবস্থায় আপনার পক্ষে রেগে যাওয়া সম্ভব না। কিন্তু এই অবস্থায় যদি ক্যাটালিস্ট হিসেবে কেউ আপনাকে গালাগাল করে কিংবা আপনাকে বিরক্ত করে তখনই আপনার রাগ উঠবে!

কিছু মানুষ আছে, যারা তাদের সব ধরনের রাগের কারণগুলোকে মেরে ফেলে। এতে করে তারা যখন ইমোশনাল পেইনে কিংবা মানসিকভাবে দুঃখ কষ্টে ভোগে তখন তারা রেগে যায় না। কারণ তারা রাগ হওয়ার জন্য যেসব ক্যাটালিস্টের দরকার ছিলো সেগুলোকে মেরে ফেলেছে! রাগ নিয়ন্ত্রণের জন্য এটা অনেক অসাধারণ একটা আইডিয়া!

অন্যদিকে কিছু মানুষ আছে, যারা সবসময় রেগে থাকে, অনেকে আবার ইচ্ছে করেই। যাদের আমরা বদমেজাজী বলে চিনে থাকি। এতে করে তারা ইমোশনালি কষ্ট পায় না! তাদের রাগটা এক ধরণের ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

একদলের লোক আবার রাগের অভিনয় করে। এতে করে তারা নিজেদের ভীত অবস্থা সম্পর্কে লুকিয়ে ফেলতে পারে। খেয়াল করে দেখবেন, অন্ধকার রাস্তায় যদি একা হাটতে ভয় পান তখন মানসিকভাবে রাগার চেষ্টা করুন। দেখবেন ভয় কমতে শুরু করেছে!

 

The psychology of human evolution
The psychology of human evolution

 

হুট করেই লিখতে ইচ্ছে হলো হিউম্যান সাইকোলজি নিয়ে! তাই আর কি লিখতে বসে গেলাম!

যদি ব্ল্যাক ম্যাজিক নিয়ে কিছু পড়াশোনা করতে চান, তাহলে এই পোস্ট পড়ে আসতে পারেনঃ হারমেটিসিজম এবং ব্ল্যাক ম্যাজিক

আর যদি, স্টিভ জবসের কিছু দরকারী কথাবার্তা মাথায় গেঁথে রাখতে চান, তাহলে এই পোস্ট বেশ দরকার আপনারঃ বড় স্বপ্ন দেখ

By Muntasir Mahdi

Author, Marketer, Entrepreneur, Content Creator

1 comment

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *