সোশ্যাল মিডিয়ার আদ্যোপান্ত

আমি যদি আপনাকে এই ২০২১ সালে, জিজ্ঞেস করি; আপনার কি ফেসবুক আইডি রয়েছে?

তাহলে আপনার উত্তর কী হবে?

আপনি হাসবেন, তাই না?

কারণ, বর্তমানে এমন ব্যক্তি খুবই কম রয়েছে; যার ফেসবুকে কিংবা ইন্সটাগ্রাম অথবা টিকটকের মতো সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলোতে অ্যাকাউন্ট নেই!

ঠিক না?

 

কেন সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলোকে আপনি দূরে ঠেলে দিতে পারেন না? কেন প্রত্যেকদিন ঘুম থেকে উঠে আপনাকে শুরুতেই সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলোতে ভিজিট করতে হয়? কেন প্রত্যেকটা দিন সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলোতে লগইন না করলে; আপনার ঘুম আসে না?

কেন? কেন? কেন?

 

এই ‘কেন’ এর উত্তর দিতে গেলে, আমাকে আরেকটু পেছনে যেতে হবে! আজকের এই আর্টিকেলে আপনারা জানবেন,

কেন সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়া আপনি এক মুহূর্তও থাকতে পারেন না?

কেন সোশ্যাল মিডিয়া আপনার ব্যবহার করা উচিত?

সোশ্যাল মিডিয়াকে আপনি কতভাবে ব্যবহার করতে পারবেন?

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কী? এবং…

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করে আয় করবেন কীভাবে?

 

 

চলুন তাহলে, আলোচনা করা যাক; প্রথম প্রশ্ন নিয়ে;

কেন সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়া আপনি এক মুহূর্তও থাকতে পারেন না?

আপনাকে যদি আমি জিজ্ঞেস করি, ঘুম থেকে উঠার পর একেবারে শুরুতেই আপনি কি করেন?

আপনি কি করেন সেটা আমি জানি না কিন্তু তারপরেও আন্দাজ করতে পারি। কারণ, প্রায় ৯৫% ব্যক্তিই আসলে এই কাজটিই করে থাকেন!

 

প্রত্যেক ১০০ জনের মধ্যে ৯০-৯৫ জনই আসলে ঘুম থেকে উঠার পর সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলোতে ভিজিট করে থাকে। কেউ হয়তো তাদের ভালোবাসার মানুষটার সাথে কথা বলার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে থাকেন। কেউ হয়তো তাদের ব্যবসার কাজে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে থাকেন।

আবার কেউ হয়তো গেইম খেলার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে থাকেন, আবার কেউ হয়তো প্রতিদিনের খবরাখবর জানার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলো ব্যবহার করে থাকেন!

সে আপনি যে কারণেই সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলো ব্যবহার করে থাকুন না কেন, আপনি কোনো না কোনো কাজে – কোনো না কোনো সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইটে প্রত্যেকদিন লগইন করছেন!

 

কিন্তু কেন?

 

আমরা তো খোজখবর নেয়ার জন্য মোবাইল ফোনে কল করেও জেনে নিতে পারি! ব্যবসার কাজে সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইটগুলোকে আমরা ব্যবহার না-ও করতে পারি! ভালোবাসার মানুষটার সাথে কথা বলার জন্য কল অপশন তো আছেই, তাহলে কেন সোশ্যাল মিডিয়া? কেন পত্রিকার বদলে এখন ফেসবুক বা টুইটার থেকে আমরা খবরাখবর পাই?

 

 

১৯৯৭ সালে সিক্স ডিগ্রিস ডট কম নামে প্রথম সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়, যেখানে আপনি আপনার প্রোফাইল পেইজ তৈরি করতে পারতেন, ফ্রেন্ডলিস্ট তৈরি করতে পারতেন এবং সেই নেটওয়ার্কের মধ্যে যে কাউকে মেসেজ সেন্ড করতে পারতেন!

বর্তমানেও কিন্তু সেই সোশ্যাল মিডিয়াতে অ্যাকাউন্ট করা যায়! আপনি চাইলেই sixdegrees.com থেকে পৃথিবীর প্রথম ‘ট্রু’ সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট করে ফেলতে পারেন!

তারপর, ২০০০ সালের মার্ক জাকারবার্গের সেই ‘কুখ্যাত’ হট অর নট ওয়েবসাইটটির কথা মনে আছে? সেই ওয়েবসাইট থেকেই কিন্তু ফেসবুক, ইউটিউব এবং আরো অনেক সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইট তৈরির ক্ষেত্রে অনেকেই ইনফ্লুয়েন্সড হয়েছে!

তারপর ২০০২ সালের দিকে অনেকেই আমরা ব্যবহার করেছি, ফ্রেন্ডস্টার! মনে আছে ফ্রেন্ডস্টারের কথা?

ফ্রেন্ডস্টারের পর আসলো মাইস্পেস। মাইস্পেসের পর ২০০৩-২০০৫ সালের মধ্যে আজকের এই ২০২১ সালে আমরা যতগুলো বিখ্যাত সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইট দেখতে পাই; তার বেশিরভাগই তৈরি হয়েছে!

ফেসবুক, ফ্লিকার, ফটোবাকেট, ডেলিশিয়াস, লিংকডইন, ওয়ার্ডপ্রেস, ইউটিউবসহ আরো প্রায় অনেকগুলো সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইট আমরা দেখতে পেয়েছি ২০০৩-২০০৫ সালের মধ্যে!

 

এখন আপনি প্রশ্ন করতে পারেন যে, কেন আমি এইসব নিয়ে কথা বলছি? কেন আমি এই গৎবাঁধা সাল মুখস্থ করে আপনাকে শোনাচ্ছি?

 

দেখুন, সোশ্যাল শব্দের অর্থ ‘সামাজিক’ আর মিডিয়া শব্দের অর্থ ‘মাধ্যম!’ তাহলে সোশ্যাল মিডিয়া হচ্ছে, এমন সব সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম; যেখানে আমরা যেকোনো ধরণের সামাজিক কার্যকলাপ করতে পারি কিন্তু সেটা যে ইন্টারনেটের মাধ্যমেই হতে হবে; সেটা তো কোথাও লেখা নেই!

আমরা চাইলে ফেসবুকের কাজটা ট্র্যাডিশনালি করতে পারি! অফলাইনেই করতে পারি! আগেও তো করা হতো!

১৬০০ সালের দিকে ইন্টারনেট ছিলো না! তাহলে তখন কি কেউ, নিজেদের পোর্টফোলিও তৈরি করতো না? তখন কি কেউ বন্ধু বানাতো না? তখন কি কেউ আড্ডা দিতো না? তখন কি কেউ একজন আরেকজনের সাথে কথা বলতো না?

জানেন কী, ১৬০০ সালের দিকে যারা একটু শিক্ষিত ছিলো; তারা প্রত্যেকদিন সন্ধ্যার পর থেকে শুরু করে রাত অবধি একসাথে বসে এক জায়গায় আড্ডা দিতো, শিক্ষামূলক কথাবার্তা বলতো এবং বন্ধু তৈরি করতো! তারা এটাকে বলতো ‘সালোন’!

 

আমরা ফেসবুকে প্রতিদিন লগইন করি, কারণ ফেসবুক আমাদের সবকিছু একসাথে একজায়গায় দিয়েছে! বর্তমানে ফেসবুক প্রোফাইল/পেইজকে আমরা সিভি হিসেবে ব্যবহার করতে পারি! যেটা সম্পর্কে ডিটেইলস আমি আমার ডিজিটাল মার্কেটিং প্রফেশনাল কোর্সে বলেছিও!

ফেসবুক থেকে আমরা আবহাওয়া দেখা থেকে শুরু করে ন্যাচারাল ডিসেস্টারে আপনার আত্মীয়-স্বজনের ক্ষতি হয়েছে কী-না সেটা কল না করেও জেনে নিতে পারছি!

ফেসবুক থেকে আমরা আজকের দিনের ট্রেন্ডি নিউজ কোনটা, ভাইরাল খবর কোনটা সেটাও জানতে পারছি! ফেসবুক থেকে আমরা নতুন রিলেশনশিপ তৈরি করতে পারছি! ফেসবুক থেকে আমরা নতুন বন্ধু তৈরি করতে পারছি! ফেসবুক থেকে আমরা ব্যবসা করতে পারছি! ফেসবুক থেকে আমরা আয় করতে পারছি! ফেসবুক থেকে আমরা গান, ছবি, ভিডিওসব প্রায় যেকোনো ধরনের কন্টেন্ট কনজ্যুম করতে পারছি!

সত্যি কথা বলতে গেলে, ফেসবুক আমাদের কাছে ২০২১ সালেই সুপারপাওয়ার হিসেবে ধরা দিয়েছে!

 

জাস্ট একটাবার চিন্তা করে দেখুন তো!

আপনি একটা সমস্যায় পড়লেন! ফেসবুকে সেটা নিয়ে পোস্ট করতেই সেই খবরটা হয়তো কয়েক শ’ কোটি মানুষের কাছে পৌছানোর ক্ষমতা রাখে! একটাবার চিন্তা করেই দেখুন না!

 

এক কথায় বলতে গেলে, ফেসবুক বা ফেসবুকের মতো যতগুলো সোশ্যাল মিডিয়া রয়েছে; প্রত্যেকটি সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের ধরে রেখেছে, আটকে রেখেছে শুধুমাত্র একটা ক্ষমতা আমাদের হাতে তুলে দিয়ে! আর সেটা হচ্ছে; বাকস্বাধীনতা!

 

আজ্ঞে হ্যাঁ!

 

আপনি বা আমি বা আমরা, প্রত্যেকেই, সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলো ব্যবহার করছি কারণ; আমরা যেমন (প্রায়) সবকিছুই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পেয়ে যেতে পারি; ঠিক একইভাবে যা ইচ্ছে বলতে পারি! আমাদের কারো কথা মাথায় আনতে হয় না! কাউকে নিয়ে টেনশন করতে হয় না!

 

শুধুমাত্র এই বাকস্বাধীনতার জন্যেই আপনি প্রত্যেকদিন ঘুম থেকে উঠে হাত-মুখ ধোঁয়ার আগেই সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলোতে লগইন করে আজকের দিনের ট্রেন্ডি নিউজ নিয়ে যা ইচ্ছে কমেন্ট করে ফেলতে পারছেন এবং পারছেন বলেই আপনি ভিজিট করছেন; লগইন করছেন!

 

 

 

 

 

কেন সোশ্যাল মিডিয়া আপনার ব্যবহার করা উচিত?

ডাটারিপোর্টালের তথ্যমতে, ২০২১ সালের শুরুতে সোশ্যাল মিডিয়া ইউজারের সংখ্যা ৩০০ কোটি থেকে বেড়ে ৪৩৩ কোটিতে পৌঁছেছে!

 

আমি যদি শুধুমাত্র এই ছোট্ট তথ্যটুকুই আপনাকে বলি, আর কোনো কিছুই না বলি; তাহলেও আমার মনে হয় না যে, আপনার বুঝতে কষ্ট হবে! আপনি অন্তত এটা তো বুঝেই গিয়েছেন যে, সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০২১ সালের শুরুতেই পৃথিবীর জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকটাই হয়ে গিয়েছে!

একটাবার ভেবে দেখুন, পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার অর্থাৎ ৭০০ কোটি মানুষের মাঝে ৪৩৩ কোটি মানুষই বর্তমানে কোনো না কোনো সোশ্যাল মিডিয়াতে অ্যাকটিভ রয়েছে।

 

ডাটারিপোর্টালের আরেকটা তথ্যমতে, একটা মানুষ যদি গড়ে সাত থেকে আট ঘন্টা, প্রতি চব্বিশ ঘন্টায় ঘুমের পেছনে ব্যয় করে তাহলে গড়ে একজন ব্যক্তি তার জাগ্রত সময়টুকু থেকে ১৫ পার্সেন্ট সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটায়!

অর্থাৎ, বিষয়টাকে আপনি এভাবে হিসেব করতে পারেন –

ধরুন, প্রতি ২৪ ঘন্টায় আপনি ঘুমিয়ে থাকেন ৭ ঘন্টা! তাহলে জেগে থাকেন, ১৭ ঘন্টা! এই ১৭ ঘন্টা সময়ের মধ্যে ১৫% সময় আপনি সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যয় করেন! অর্থাৎ, আপনি সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যয় করেন গড়ে, দু ঘন্টা ৫৫ মিনিট!

 

এখন আমাদের কাছে দুটো তথ্য রয়েছে! প্রথমত, পৃথিবীর অর্ধেকটা এখন সোশ্যাল মিডিয়াতে এবং দ্বিতীয়ত, এই ৪৩৩ কোটি মানুষ প্রত্যেকদিন সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রায় তিন ঘন্টা করে সময় দিচ্ছে!

 

তাই তো?

 

এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে, যদি আমি আপনাকে একটি পন্য বা সেবা দিই, বিক্রি করে আয় করার জন্য তাহলে আপনি কি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ঐ তিন ঘন্টা সময় ব্যয় করে একটা মানুষকে তার তিন ঘন্টা সময়ের মধ্যে বুঝিয়ে আপনার পন্য বা সেবাটা বিক্রি করতে পারবেন না?

 

অবশ্যই পারবেন! তিন ঘন্টায় কতকিছুই তো করা সম্ভব!

তিন ঘন্টায় আমরা বাসে চড়ে এক বিভাগ থেকে আরেক বিভাগে চলে যেতে পারি।

তিন ঘন্টায় প্লেনে চড়ে বাংলাদেশ থেকে অন্যদেশে চলে যাওয়া যায়!

তিন ঘন্টায় একটি আস্ত মোরগ পোলাও রাঁধা সম্ভব!

তিন ঘণ্টায় অ্যাভেঞ্জারস ইনফিনিটি ওয়ার পুরো মুভি দেখে ফেলা সম্ভব, একেবারে ট্রেইলারসহ!

তিন ঘন্টায় আমার ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে হাতেখড়ি বইটিও আপনি পুরোটা পড়ে ফেলতে পারবেন!

হাহাহা! সর‍্যি ফর দ্যাট!

সো, মূল কথা হচ্ছে – আপনি বুঝতেই পারছেন যে, তিন ঘন্টায় অনেককিছুই করে ফেলা সম্ভব। তাই না?

 

তাহলে, কেন আপনার সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা উচিত?

কারণ, সোশ্যাল মিডিয়া বর্তমানে শুধুমাত্র একটা সোশ্যাল নেটওয়ার্ক তৈরি করার ওয়েবসাইটই নয়, বরঞ্চ এই সোশ্যল মিডিয়াই আপনাকে প্রত্যেক মাসে লক্ষ থেকে বছরে কোটি টাকাও আয় করতে সাহায্য করবে! আমাকেও করেছে, আপনাকেও করবে – যদি… আপনি ঠিকভাবে সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করতে পারেন! শুধুমাত্র তখনই…!

 

 

 

 

 

সোশ্যাল মিডিয়াকে আপনি কতভাবে ব্যবহার করতে পারবেন?

আগেও বলেছি, আবারো বলছি!

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইটগুলো শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইটই নয় বরঞ্চ সেইসব ওয়েবসাইটের এখন এভ্যুলুশন হয়েছে!

ফেসবুকে এখন আর ‘লাইক’ বাটনকে আমরা কেউ পাত্তাই দিই না!

ইন্সটাগ্রামের ফিড পোস্টের ছবিগুলো আর আগের মতো চ্যাপ্টা আকারে আসে না!

টিকটক এখন আর শুধুমাত্র ‘ক্ষ্যাত’ একটা সোশ্যাল মিডিয়া নয়! টিকটককে ব্যবহার করে এখন আমরা ব্যবসাও করতে পারি!

লিংকডইনের আগের সেই স্ট্যাটিক ডিজাইনে আমাদের চোখ ঝলসে দেয় না!

ইউটিউব এখন আগের থেকে অনেক বেশিই ভয়ংকর একটা প্লাটফর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে!

 

প্রত্যেকটা সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইটই ২০০৫ সালের দিকে যেমন ছিল, ২০২১ সালে তেমন আর নেই! আর এটাই স্বাভাবিক! সবকিছুই পরিবর্তিত হয়।

 

মুনীর চৌধুরী স্যারের সেই বিখ্যাত উক্তিটা মনে আছে,

“মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়, কারণে-অকারণে বদলায়!”

 

ঠিক একইভাবে, সোশ্যাল মিডিয়াগুলোও বদলেছে! আরো বদলাবে ভবিষ্যতে! আপনি নিজেই তো, ফেসবুককে একই চেহারায় সারাজীবন দেখতে চাইবেন না! তাই না?

 

বর্তমানের প্রত্যেকটা সোশ্যাল মিডিয়াই কিন্তু বেশ শক্তিশালী অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে! এখন সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইটগুলোকে আপনি অনেক কাজে ব্যবহার করতে পারবেন!

যেমন, ফেসবুকের কথাই ধরা যাক!

ফেসবুকে একটা পেইজ করে, মাত্র ১০০ লাইক নিয়েই আপনি কমপক্ষে ১০০০০ টাকার পন্য বিক্রি করে আয় করতে পারবেন! ফেসবুকে একটা গ্রুপ তৈরি করে, আপনার নিশের জন্য আপনি একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারবেন! ফেসবুকে আপনার প্রোফাইল থেকেই আপনি কন্টেন্ট তৈরি করে বিশাল ফ্যানবেইজ তৈরি করতে পারবেন! ফেসবুকে রক্তদান কর্মসূচীর মতো সামাজিক কাজগুলো করার জন্যেও কমিউনিটি তৈরি করতে পারবেন! ফেসবুককে সঠিকভাবে ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি চাকরি করা থেকে ফ্রিল্যান্সিং পর্যন্ত করতে পারবেন!

এইতো গেলো ফেসবুক…

ঠিক একইভাবে…

ইন্সটাগ্রাম ছবি শেয়ারিং বেইজড সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্ক। সেখানে মডেলিং থেকে শুরু করে নিজস্ব কন্টেন্ট বেইজড ফ্যানবেইজ তৈরি করাটা কিন্তু ততটা কঠিন কোনো কাজ নয়!

টিকটক প্লাটফর্মটি নিয়ে আমরা যারাই কিছুদিন আগে বা এখনো হাসাহাসি করছি; তাদের হাসি কিন্তু আর বেশিদিন টিকবে না! টিকটক প্লাটফর্ম হিসেবে বেশ গ্রো করেছে এবং করেই যাচ্ছে!

লিংকডইন আপনার লাইভ সিভি হিসেবে কাজ করছে! লিংকডইনে ভালো লেখালেখি করে দেশের বাইরে মাসে ৫-৭ লক্ষ টাকা বেতনের চাকরিও পেতে দেখেছি আমি মানুষকে। লিংকডইন এখন শুধুমাত্র চাকরি খোঁজার ওয়েবসাইট নয়। বরঞ্চ লিংকডইনের বয়স যত বাড়ছে লিংকডইন তত দ্রুতই বাড়ছে! সামনে এগুচ্ছে…

 

 

প্রত্যেকটা সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইটকেই আপনি আপনার চাকরির সিভি হিসেবে কাজে লাগাতে পারেন, আবার চাইলে ঝগড়া করার জন্যেও ব্যবহার করতে পারেন! আপনার চয়েস!

প্রত্যেকটা সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইটকেই আপনি ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজে ব্যবহার করে মাসে লক্ষ টাকা কামাতে পারেন, আবার চাইলেই অন্যকে নিয়ে ট্রল করার জন্যেও ব্যবহার করতে পারেন! আপনার চয়েস!

প্রত্যেকটা সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইটেই কন্টেন্ট পাবলিশ করে ফ্যানবেইজ গড়ে তুলতে পারেন, আবার চাইলেই ফেইক আইডি খুলে মানুষের ক্ষতি করার জন্য ব্যবহার করতে পারেন! আপনার চয়েস!

প্রত্যেকটা সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইটকেই আপনি ব্যবসার কাজে ব্যবহার করে আরো বেশি সেইল বৃদ্ধির কাজে ব্যবহার করতে পারেন, আবার চাইলেই সেলিব্রেটিদের কমেন্টে গিয়ে গালাগালি করে আসতে পারেন! আপনার চয়েস!

 

আপনি কোনটা বাছাই করবেন, সেটা আপনার ইচ্ছে! সেটা আপনার মতামত! আপনার মতামতে বাধা দেয়ার অধিকার, আমার বা অন্য কোনো দ্বিতীয় ব্যক্তির নেই! শুধুমাত্রই আপনার নিজের হাত রয়েছে, আপনার মতামতে!

আমাকে বা অন্য কাউকে উত্তর দিতে হবে না! শুধুমাত্র একটাবার ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখুন তো… আপনার জন্য কোনটা ভালো? কোনটা উপকারী?

 

 

 

 

 

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কী?

আমাদের আর কী! অনেক শোনা যাচ্ছে মানেই, সেটা আমাদের করতে হবে! বোঝার দরকার নেই, সেটা আমাদের দরকার না-কি অদরকারী একটা বিষয়! টপিকটা ভাইরাল হয়ে গেলো মানে আমাদের সেটা করেই ফেলতে হবে…!

কি যে একটা অবস্থা…

 

যাই হোক!

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বিষয়টা কী, সেটা বোঝার আগে আমাদের বুঝতে হবে – ‘মার্কেটিং’ বিষয়টা আসলে কী…

এত বড় করতে যাবো না, কারণ মার্কেটিং নিয়ে আমার ফ্রি কোর্সই রয়েছে যেখানে মার্কেটিংয়ের ব্যাসিক নিয়ে ফ্রিতে প্রায় সাত ঘন্টা বকবক করেছি! সেটা দেখলেই মার্কেটিং বিষয়টা পানির মতো ক্লিয়ার হয়ে যাবে!

মার্কেটিং মানে কোনো পন্য বা সেবা বিক্রি করা নয়।

সেল শব্দের অর্থ বিক্রি করা! মার্কেটিং শব্দের অর্থ, বাজারজাত করা!

অর্থাৎ, মার্কেটিং মানে একটা পন্য বিক্রি করা নয়, বরঞ্চ সেই পন্যটাকে বাজারজাত করা – যাতে করে মানুষ সেই পন্য বা সেবাটাকে দেখতে পারে, বুঝতে পারে, হাতে ধরতে পারে, টেস্ট করে দেখতে পারে এবং সর্বশেষে কিনতে আগ্রহী হতে পারে বা কিনবে কী-না সেটার সিদ্ধান্ত নিতে পারে!

যেমন, আপনি একটা চেয়ার কিনতে চাইলে হুট করেই সামনে থাকা যেকোনো একটা চেয়ার কেনেন না! আপনি প্রথমে সেই চেয়ার সম্পর্কে জেনে নেন, তারপর সিদ্ধান্ত নেন চেয়ারটি কেনার জন্য আপনি আগ্রহী কী-না! যদি আগ্রহী হয়ে থাকেন, তাহলে তখন থেকেই সেলস স্টেজ শুরু হয়! আগ্রহী হওয়ার আগ পর্যন্ত আপনি মার্কেটিং স্টেজে ছিলেন!

তাহলে এক কথায় বলতে গেলে, মার্কেটিং মানে হচ্ছে কোনো পন্য বা সেবা সম্পর্কে কোনো ব্যক্তিকে আগ্রহী করে তোলা!

আর যখন…

এই আগ্রহী করে তোলার কাজটা আমরা সামনসামনি করে থাকি তখন সেটাকে ডিরেক্ট মার্কেটিং বলা যায়!

এই আগ্রহী করে তোলার কাজটা আমরা যখন কন্টেন্ট ব্যবহার করে থাকি তখন সেটাকে কন্টেন্ট মার্কেটিং বলে থাকি!

এই আগ্রহী করে তোলার কাজটা আমরা যখন মোবাইলের এসএমএসের মাধ্যমে করে থাকি তখন সেটাকে এসএমএস মার্কেটিং বা মোবাইল মার্কেটিং বলে থাকি!

 

ঠিক একইভাবে,

কোনো পন্য বা সেবা সম্পর্কে কোনো ব্যক্তিকে আগ্রহী করে তোলার কাজটা করার জন্য আমরা যখন ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রামের মতো বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইট ব্যবহার করি; তখন সেটাকেই আমরা বলি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং!

 

এখন ক্লিয়ার?

শুধু এতটুকু মনে রাখবেন,

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং মানে শুধুমাত্র বুস্টিং নয়!

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং মানে শুধুমাত্র প্রমোশন নয়!

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং মানে শুধুমাত্র অ্যাডভার্টাইজিং নয়!

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং মানে কমেন্টে গিয়ে স্প্যামিং করা নয়!

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং মানে লক্ষ কোটি ফলোয়ার নয়!

 

 

 

 

 

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করে আয় করবেন কীভাবে?

এই সেকশনে আমি হয়তো সম্পূর্ন ডিটেইলসে বলতে পারবো না, কারণ; এটা বিশাল এক টপিক! এখানে বলতে গেলে কয়েক লক্ষ শব্দেও শেষ করা যাবে না!

তবে, যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু বলারই চেষ্টা করছি!

 

 

তো… আপনি জানেন যে,

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং মানে শুধুমাত্র বুস্টিং নয়!

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং মানে শুধুমাত্র প্রমোশন নয়!

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং মানে শুধুমাত্র অ্যাডভার্টাইজিং নয়!

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং মানে কমেন্টে গিয়ে স্প্যামিং করা নয়!

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং মানে লক্ষ কোটি ফলোয়ার নয়!

 

তাহলে ‘হোয়াদ্দাহেক’ ইজ সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং?!

অনেকগুলো কাজ মিলেই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং। তাই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের অনেকগুলো কাজ করেই আপনি আয় করতে পারবেন!

 

প্রথমেই বলে নেয়া উচিত, যেকোনো স্কিল শিখেই আপনি তিনটা পথে এগুতে পারবেন! এক্ষেত্রে, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, স্কিলটা শিখে আপনি চাকরি করতে পারেন কিংবা ফ্রিল্যান্সিং করতে পারেন অথবা ব্যবসা করতে পারেন! এই তিনটা পথ থেকে কোনটা বাছাই করবেন সেটা আপনার চয়েস…

 

 

সে আপনি যেকোনো পথেই এগুনোর চেষ্টা করুন না কেন, আপনাকে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়েরই অনেকগুলো কাজ শিখতে হবে। যেমন, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাডভার্টাইজিং, সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট রাইটিং, সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট ক্রিয়েশন, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাড কপি রাইটিং, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট, সোশ্যাল মিডিয়া অপ্টিমাইজেশন, সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ক্রিয়েশন ইত্যাদি!

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের এই কাজগুলো শিখে ফেললেই, আপনি একজন পারফেক্ট সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটার হিসেবে পা বাড়াতে পারবেন, সামনের দিকে!

এখন প্রশ্নটা হচ্ছে, কীভাবে শিখবো সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং?

তাই তো?

যেকোনো স্কিলই আপনি পাঁচ (৫) ভাবে শিখতে পারবেন!

ফিজিক্যাল ক্লাসের (০১) কথায় প্রথমে যাওয়া যাক! বাংলাদেশে শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং শেখাচ্ছে এমন কোনো ইন্সটিটিউশন দুর্ভাগ্যবশত এখনো নেই! তবে অনেকগুলো ইন্সটিটিউশন ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের কোর্সের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং শিখিয়ে থাকে! যদিও সেটাতে কোনো সমস্যার কিছু নেই!

আমার নিজের ইন্সটিটিউশন, অপ্টিমাইজারেও আমরা মূলত ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের তিন মাসের প্রফেশনাল কোর্সের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংসহ আরো প্রায় বিশ-পচিঁশধরণের মার্কেটিং মেথড শেখাচ্ছি! সেই কোর্স করেই এখন পর্যন্ত আমাদের প্রায় দুশোয়ের বেশি প্রফেশনাল শিক্ষার্থী তৈরি হয়েছে!

দ্বিতীয়ত আপনি অনলাইনে লাইভ ক্লাসের (০২) মাধ্যমেও সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং শিখতে পারেন! বর্তমানে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং নিয়ে লাইভ ক্লাস করাচ্ছে!

অনলাইনে ভিডিও রেকর্ডেড ক্লাসের (০৩) মাধ্যমেও আপনি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং শিখতে পারেন! বর্তমানে অনেকেই নিজের রেকর্ডেড সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের কোর্স নিয়ে আসছে! সেগুলোর যেকোনো একটা করে দেখতে পারেন!

আমার নিজেরও সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের কোর্স রয়েছে, যেটা আপনাকে ইনরোল করতে হলে আমার ওয়েবসাইট থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং প্রফেশনাল কোর্সটি দেখে আসতে হবে!

আপনি চাইলে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের বই (০৪) থেকেও কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং শিখে ফেলতে পারেন! বাংলায় সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং নিয়ে ভালোভাবে শেখা যাবে এমন কোনো বই আপনাকে আমি সাজেস্ট করতে পারছি না বলে দুঃখিত। কিন্ত ইংরেজি থেকে শিখতে যদি আপনার সমস্যা না হয়, তাহলে গাই কোয়াসাকির ‘দ্যা আর্ট অফ সোশ্যাল মিডিয়া’, গ্যারি ভেইনারচাকের ‘ক্র্যাশিং ইট’ এবং সেথ গডিনের ‘দিস ইজ মার্কেটিং’ এই তিনটি বই দিয়ে শেখা শুরু করে দিতে পারেন!

এতগুলো শেখার মাধ্যমে পছন্দ না হলে কিংবা টাকায় যদি আপনাকে বেশি কামড়ায় তাহলে আপনি ওয়ান-টু-ওয়ান কোচিংয়ের মাধ্যমেও কিন্ত সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং শিখে ফেলতে পারেন! এতে ফি বেশি হলেও শিখবেন কিন্তু আপনি একাই…!

 

সো…

এই পাঁচটা পদ্ধতির যেকোনো একটাতে শিখে ফেলুন সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং!

 

যদি আজকের তারিখটা ২০১৫ হতো, তাহলেও আপনাকে আমি ততটা জোর করতাম না সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং শেখার জন্য। কিন্তু ট্রাস্ট মি, দ্য উইন্টার ইজ কামিং… (গেইম অব থ্রোনস)

 

 

 

শেষকথা…

করোনাতে আমরা যখন সবাই ঘরে বন্দি, তখন সবচেয়ে বেশি ভাইরাল হয়েছে কোন বিষয়টা?

ফেসবুকে ব্যবসা করাটা!

ভুলে গিয়েছেন?

কতগুলো নতুন ছোটখাটো ব্যবসা শুরু হয়েছে এই করোনাতেই। তাই না? গুনে শেষ করা যাবে?

উঁহু! মনে হয় না!

সোশ্যাল মিডিয়া এতটাই ক্ষমতাশালী যে, ২০৩০ এর মধ্যে পৃথিবীর জনসংখ্যার প্রায় ৯০% সোশ্যাল মিডিয়াতে চলে আসবে!

 

আয়নার দিকে তাকিয়ে একবার প্রশ্ন করুন তো, আমি পিছিয়ে পড়ছি না তো?

By Muntasir Mahdi

Author, Marketer, Entrepreneur, Content Creator

1 comment

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *