থট প্যাটার্ন (Thought Pattern) নিয়ে কিছু কথা

একটা অদ্ভুত বিষয় নিয়ে ভাবছিলাম! ইগনোরও করতে পারেন চাইলে!
একজন আমেরিকানের গড় আয়ু ৭৮ বছর।
মেটা‘র প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের বর্তমান বয়স ৩৭ বছর।
একুশ শতাব্দীর সবচেয়ে অসাধারণ সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, গ্যারি ভি‘র বর্তমান বয়স ৪৫ বছর।
গুগলের প্রতিষ্ঠাতা, সার্গেই ব্রেন এবং ল্যারি পেইজের বর্তমান বয়স ৪৮ বছর।
আমাদের রিয়েল লাইফের আয়রন ম্যান, ইলন মাস্কের বর্তমান বয়স ৫০ বছর!
অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা, জেফ বেজোসের বর্তমান বয়স ৫৭ বছর!
মাইক্রোসফটের কো ফাউন্ডার, বিল গেটসের বর্তমান বয়স ৬৬ বছর!
একুশ শতাব্দীর সবচেয়ে জ্ঞানী একজন ব্যবসায়ী ও ইনভেস্টর, ওয়ারেন বাফেটের বর্তমান বয়স ৯১ বছর।
হুট করে তাদের বয়স নিয়ে কথা বলছি কেন?!
আমি ভাবছিলাম,
এরা প্রত্যেকেই একুশ শতাব্দীর সবচেয়ে ইনফ্লুয়েনশিয়াল ব্যক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম জায়গা দখল করে আছেন। অর্থাৎ, একুশ শতাব্দীকে পরিবর্তন করার পেছনে এদের হাত সবচেয়ে বেশি!
এরা শুধুমাত্র একুশ শতাব্দীকে পরিবর্তনই করছে না, বরঞ্চ এদের দেখেই নতুন প্রত্যেকটা ছেলে-মেয়ে তাদের ক্যারিয়ার এবং লাইফস্টাইল নিয়ে মাথা ঘামায়! শুধুমাত্র এদের জন্যেই!
আমি তাদের হেয় করছি না বা দোষ দিচ্ছি না! সেই পারস্পেকটিভ থেকে চিন্তা করে তাদের দোষ বের করার চেষ্টা করি নি!
আমি চিন্তা করছিলাম,
এই যে ইনফ্লুয়েনশিয়াল ব্যক্তিরা তাদের নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে পৃথিবীকে চেঞ্জ করার প্ল্যান করছেন, কিন্তু কেন করছেন সেটা?
কেন মার্ক, মেটা নাম দিয়ে সোশ্যাল টেকনোলজির ভবিষ্যৎ তৈরি করেছে?
কেন গ্যারি, তার সারাজীবন মানুষকে শুধু ইমোশনালি ইন্সপায়ার করে এসেছে?
কেন সার্গেই এবং ল্যারি, গুগলের মাধ্যমে পুরো পৃথিবীকে এক পৃষ্ঠায় নিয়ে এসেছে?
কেন মাস্ক সাহেব, ২০৫০ এর মধ্যে মঙ্গলে দশ লক্ষ হ্যাবিটেন্ট নিয়ে শহর গড়ার স্বপ্ন দেখেছে?
কেন বিল, তার নিজের গড়া সম্পত্তি দিয়ে ভারতের কয়েক কোটি মানুষের বাথরুম তৈরি করে দিচ্ছে?
কেন বেজোস, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মার্কেটপ্লেস অ্যামাজন তৈরি করেছে?
কেন ৯০ বছরের পরেও ওয়ারেন বাফেট এখনো সেই আগের মতোই বিজনেস নিয়েই সারাদিন কথাবার্তা বলে থাকে?
কেন কেন কেন?!
এর উত্তর নিয়েই আমি ভাবছিলাম!
পৃথিবীর প্রত্যেকটা ইনফ্লুয়েনশিয়াল ব্যক্তিত্ব সবসময়েই একটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন। আর সেই প্রশ্নটা হচ্ছে, Why I am here?
বোঝেন নি?!
পৃথিবীতে প্রত্যেকটা ব্যক্তিরই একটা পারপাস থাকে, একটা উদ্দেশ্য থাকে। যেই উদ্দেশ্যটা সে নিজের জন্যে নয়, অন্যের জন্য করে থাকে। যে উদ্দেশ্য পূরণ করার জন্য সে ম্যাক্রো লেভেল থিংক করে থাকে!
এটাকে পারমেনিডিস ফিলোসফিতে ম্যাক্রো লেভেল থট প্যাটার্ন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
উপরে যাদের কথা বলেছি আমি, প্রত্যেকটা ব্যক্তিই তাদের নিজস্ব জায়গা থেকে, তাদের নিজস্ব সেক্টর থেকে, তাদের প্রত্যেকটা কাজের মাধ্যমে শুধুমাত্র একটা প্রশ্নেরই উত্তর দিয়ে আসছে!
আর সেই প্রশ্নটা হচ্ছে, কেন তাদের জন্ম এই পৃথিবীতে হয়েছে?
তারা সেই প্রশ্নের উত্তর তাদের নাম, তাদের কাজ, তাদের চিন্তাভাবনা এবং তাদের কন্টেন্ট দিয়ে প্রতিনিয়ত আমাদের দিয়ে যাচ্ছে।
তাই না?
Though Pattern - থট প্যাটার্ন
তাদের প্রত্যেকের বয়সই এমন একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে তারা চাইলেই যেকোনো কিছু করতে পারে। কিন্তু, তারা তাদের সময়গুলোকে ব্যবহার করছে সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পেছনে।
এটাকে আমরা বাংলাদেশিরা সহজভাবে একটা লাইনে বলে থাকি, চাঁদ ছোঁয়ার স্বপ্ন না দেখলে চাঁদ ছোয়া যায় না!
ঠিক একইভাবে, ১৮ বছর থেকে শুরু করে ৩০ পর্যন্ত, প্লিজ ম্যাক্রো লেভেলে থিংক করুন! পৃথিবীর মোস্ট ইনফ্লুয়েনশিয়াল ব্যক্তিদের থট প্যাটার্ন বোঝার চেষ্টা করুন!
ধীরে ধীরে এগুতে থাকুন! বয়স, কাউকে আটকে রাখে না! সময় আছে কী-না সেটার চিন্তা না করে, এই সময়টায় একটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজুন আপনার কন্টেন্টের মাধ্যমে, আপনার কাজের মাধ্যমে, আপনার মোমেন্টসগুলোর মাধ্যমে,
কেন আপনি ‘আপনি’ হয়ে জন্মেছেন, কেন ‘সে’ সে হয়ে জন্মেছে?
রেকমেন্ডেড আর্টিকেলঃ

By Muntasir Mahdi

Author, Marketer, Entrepreneur, Content Creator

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *