ভাইকিংসঃ নর্স মিথোলজি নাকি সত্য ঘটনা

ভাইকিংস!

এরা মূলত জলদস্যু,ডাকাত এবং সমুদ্রের ত্রাস হিসেবে পরিচিত।ইউরোপ ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি যুদ্ধবাজ জাতি হিসেবে এদের অনেক গল্পই আছে। তবে এরা প্রায় সম্পূর্ণই বর্বর জাতি ছিলো। লুট, খুন, ধর্ষণ ইত্যাদি ছিল ওদের কাছে বীরত্ব। এদের মাঝে সূত্র ছিলো যে, যে যত বেশি ডাকাতি করতে পারবে, সেই তত বড় বীর।

ভাইকিংস‘ শব্দটি মূলত নরওয়ের নর্স ভাষা থেকে। এদেরকে নর্স মিথোলজিতেও ফেলা যায়। আপনাদের প্রিয় থর, ওডিন, লোকি ইত্যাদি সবাই এই নর্স মিথোলজির অন্তর্ভুক্ত। নর্স ভাষায় ‘ভাইকিংস’ শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘জলদস্যু’।

প্রায় ৮০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ভাইকিংসদের উত্থান শুরু হয় যার ব্যপ্তিকাল ছিলো প্রায় ১০৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। এই সময়কালকেই বলা হয় ‘স্ক্যানডেনিভিয় সম্প্রসারণ’ বা ‍’ভাইকিং এজ’।

ভাইকিংসদের তখন খুব ভালো নৌকা বা জাহাজ তৈরি করতে পারতো। এদের নৌকা বা জাহাজগুলি দেখতে যেমন ছিলো তেমনি ছিল বৈচিত্রপূর্ণ। যা বেশ যুদ্ধোপযোগী ছিলো। ভাইকিংসদের এমন যুদ্ধবাজ মনোভাব হওয়ার পেছনে এদের শারীরিক গঠন অনেকটাই দায়ী ছিলো। কারন এরা দেখতে অনেক লম্বা এবং চওড়া দেহের অধিকারী ছিল। এদের প্রধান অস্ত্র ছিল কুঠার।

 

Vikings: Norse Mythology
Vikings: Norse Mythology

 

মজার ব্যাপার হচ্ছে এরা যে শুধু লুট করতো তাই নয়। এরা ভালো ব্যবসায়ীও ছিল।

ভাইকিংসরা শুরুর দিকে তাদের আশেপাশেই লুট করতো, ডাকাতি করতো। সমুদ্র পারি দিয়ে খুব দুরে যেতে তারা ভয় পেতো, কারন তাদের জাহাজগুলি দূরপাল্লার অভিযানের জন্য শক্তিশালী হলেও তারা তখনো দিক নির্ণয় করতে শিখে নি। তবে খুব দ্রুতই তারা দিক নির্ণয়ের এক অভিনব কৌশল হিসেবে একধরনের কম্পাস আবিষ্কার করে যা দিয়ে সুর্যের অবস্থান নির্ণয়ের মধ্য দিয়ে দিক নির্ণয় করা যায়।

সেই সাথে তারা এক ধরনের স্ফটিক ব্যবহার করে যা দিয়ে সুর্য অন্ধকার মেঘে ঢাকা থাকলে সেটা আকাশের দিকে উচিয়ে ধরলে সুর্যের আলো দেখা যেত এবং দিক নির্ণয় করতে পারতো।

ভাইকিংসরা ধর্মের দিক দিয়ে ছিল খুব গোঁড়া। প্রচুর কুসংস্কারে তারা বিশ্বাস করতো। তারা মূলত নর্স ধর্মের অনুসারী ছিল। তারা বিভিন্ন শক্তির পুজা করতো, যাদের মূল শক্তি ছিলো ওডিন, লোকি, থর এরাই। ১০৬৬ সালের দিকে ভাইকিংসরা স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ ব্যাটেলে মারা যায়। সেখানেই শেষ হয় ভাইকিংসদের কাহিনী। যদিও নর্স মিথোলজি অনুসারে ভাইকিংসদের বর্ণনা অন্যভাবে দেয়া আছে।

 

বাই দ্যা ওয়ে, যদি ব্ল্যাক ম্যাজিক নিয়ে পড়ার ইচ্ছে থাকে তাহলে এই পোস্টটি পড়ে আসতে পারেনঃ ব্ল্যাক ম্যাজিক – দ্য ডার্ক আর্টস

 

নর্স মিথোলজি অনুসারে, রাগনারকের নাম শুনেছেন? হ্যা, নর্স ভাষায় যেটাকে বলে, ‘ফেইট অফ গডস’।

জ্বি, মার্ভেল মুভিতে যেটা দেখেছেন সেটা অনেকটাই চেঞ্জ করে আমাদের দেখানো হয়েছে। যাই হোক, আরেকদিন বলবো নে রাগনারোকের কাহিনী। তো সে রাগনারকেই মারা যায় সব অ্যাসগার্ডিয়ানরা। আর সেখানেই মারা যায় সব ভাইকিংসরাও।

By Muntasir Mahdi

Author, Marketer, Entrepreneur, Content Creator

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *