নিশ (Niche) কী?

আমি আমার প্রথম গল্প লিখি ক্লাস সেভেনে, ২০০৯ সালে।
পাঁচ পৃষ্ঠা জুড়ে সেই গল্প আমি দেখিয়েছি শুধুমাত্র দুটো ব্যক্তিকে। তারাও ভাবে নি আর আমিও ভাবি নে যে, আমি কখনো লিখবো আর সেই লেখা দেশের সর্বোচ্চস্তরের বইমেলাতে পাবলিশ হবে!
কখনোই না!
বইমেলায় যেতাম, পড়তাম, কিনতাম এবং চলে আসতাম! কখনোই ভাবি নি, নিজের বই নিজের হাতে আরো হাজার হাজার মানুষকে তুলে দেবো!
কখনোই না!
আমি যখন লেখালেখি শুরু করি, তখন আপনাদের মতোই আমারো মনে হতো, ফ্রিতে লিখে আর কতদিন? এভাবে চলতে থাকলে লেখালেখি দিয়ে তো কিছুই করতে পারবো না!
তারপরেও লেখালেখি চালিয়ে গিয়েছি আর একইসাথে টিপিক্যাল পড়াশোনা, স্কুলের হোমওয়ার্ক আর একশটা বইয়ের প্রেসার!
আমি পড়তাম, প্রচুর পড়তাম!
মুনতাসির মাহদীর বইগুলোর পিডিএফ এবং হার্ডকভার!
হুমায়ুন স্যারের সাতাশটা বই তিনদিনে পড়ে শেষ করে ফেলেছিলাম! ইংরেজি টিভি সিরিজ আর সিনেমা দেখতে দেখতে ইংরেজি বোঝার ক্ষমতা হয়ে গিয়েছিল! আর তাই, ইংরেজি কোর্স করতে আর বই পড়তে কোনো সমস্যা হতো না!
নেপোলিয়ান বোনাপার্টকে চেনেন না, এমন মানুষ খুবই অল্প! এই সাহসী মিলিটারি লিডারের একটা বিখ্যাত উক্তি হচ্ছে,
শো মি অ্যা ফ্যামিলি অব রিডারস! অ্যান্ড আই উইল শো ইউ দ্যা পিপল হু মুভ দ্যা ওয়ার্ল্ড!”
এই উক্তিটা প্রথম পড়েছিলাম, ২০১৩ সালে। আর তখন থেকেই গল্পের বই পড়া, এটা-সেটা পড়া, যেখানে যতকিছু পেতাম, সবই পড়তাম! মার্কেটিং সম্পর্কে বোঝার পর থেকে, অ্যাডভার্টাইজমেন্ট, পোস্টারও পড়তাম!
সবাই বাসের জন্য অপেক্ষা করছে! আমিও দাঁড়িয়ে আছি, বাসের জন্য! কিন্তু পাঁচ মিনিট পরে বুঝতে পারলাম যে, বাস চলে গিয়েছে আর আমি তখন সামনের বিল্ডিংয়ের বাসার নাম্বার পড়ছি, গাড়ির নাম্বারপ্লেট পড়ছি!
আই নো! আই নো! অ্যাবনরমাল বিহেভিয়ার!
আর এটাই হচ্ছে, পৃথিবীর প্রত্যেক লেখকের সবচেয়ে বড় সিক্রেট!
পড়ুন!
আপনি যত পড়বেন, তত আপনার চিন্তা করার সময়টা কমে যাবে!
একটা উদাহরণ দিই! কেমন?
ধরুন আপনাকে আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কীভাবে একটা ব্যবসা দাঁড় করাবেন?”
আপনি আমাকে উত্তর দেয়ার জন্য প্রথমে ‘কী উত্তর দেবেন’ সেটা চিন্তা করবেন! তারপর আপনার ব্রেইন সেটাকে সাজাবে, গোছাবে এবং তারপর উত্তর বের হয়ে আসবে!
যখন আপনি বই পড়বেন, তখন আপনার ব্রেইন প্রথম ধাপে শুধুমাত্র চিন্তাই করবে না, বরঞ্চ সে আপনার ‘মেমোরিস ফোল্ডারে থাকা’ অন্যান্য মতামত থেকে বেস্ট অপশন খুঁজে বের করে এনে আপনার সামনে দাঁড় করাবে!
কারণ, আপনি বই পড়েছেন – আপনার কাছে অনেকগুলো অপশন!

Find your niche

ডক্টর ফস্টাসকে চেনেন? তিনি ডেভিলের কাছে তার আত্মাও বিক্রি করতে চেয়েছিলেন; কিসের জন্য জানেন?
নারীর জন্য নয়, ক্ষমতার জন্যে নয়, অর্থের জন্য নয় – জ্ঞানের জন্য!
যে বই পড়ে না, সে-ই ওভারথিংক করে! যে বই পড়ে, সে জানে কোন মতামতের শেষ কোথায়! তার ওভারথিংকের প্রয়োজন পড়ে না!
নিশ‘ শব্দটা কোথায় শুনেছেন আপনি?
ইউটিউবে, ফেসবুকে, কোন কোর্সে, কোনো বইয়ে?
যেখানেই শুনুন, এটা ততটা কঠিন কোনো ম্যাটার নয়!
ধরুন, আপনাকে আমি বেইজবল ব্যাট নিয়ে পাঁচটা ১০০০ শব্দের আর্টিকেল লিখতে বললাম! আপনি লিখতে পারবেন না, যদি-না আপনার বেইজবল ব্যাট সম্পর্কে কোনো ধারণা না থাকে!
আপনাকেই আমি, আবার ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে পাঁচটা ১০০০ শব্দের আর্টিকেল লিখতে বললাম! আপনি যেহেতু ক্রিকেট সম্পর্কে বেশ ভালো জানেন, তাহলে ক্রিকেট নিয়ে আপনি পাঁচটা কেন, পঞ্চাশটা আর্টিকেলও লিখতে পারবেন!
আপনার ভয় করবে না! আপনি রিসার্চ করার জন্যেও অনেক অনেক অনেক অপশন খুঁজে পাবেন!
এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে, কোনটা আপনার নিশ?
বেইজবল ব্যাট নাকি ক্রিকেট ব্যাট?
স্বাভাবিকভাবেই, ক্রিকেট ব্যাট!
নিশ শব্দটা এসেছে ফ্রেঞ্চ থেকে। যেটার বাংলা মানে, যথার্থ!
নিশ একটা টপিক, সাবেজেক্ট ছাড়া আর কিছুই নয়! কিন্তু তাহলে কেন, টপিক বলি না আমরা; নিশ বলে থাকি?
কারণ, নিশ হচ্ছে যথার্থ সেক্টর, আপনার জন্য উপযুক্ত যেটা; সেটাই!
“ভাইয়া, আমি তো লিখতে পারি না!”
আপনার হাত নেই? ব্রেইন নেই? ঘরে কলম নেই? খাতা নেই?
যদি থাকে, দ্যান এনাফ!
লেখার জন্য আপনার ইমাজিনেশন যথেষ্ট! ইমাজিনেশনকে ব্যবহার করে প্রত্যেকদিন অন্তত ১০০ শব্দ লিখুন! ১০০ শব্দ অ্যা ফোর সাইজের কাগজে মাত্র ৫-৭ লাইনেই লেখা যায়!
আপনি যদি আপনার নিশ সম্পর্কে বই পড়ে প্রতিদিন অন্তত ১০০ শব্দ করে লিখতে পারেন; তাহলে লেখালেখি দুনিয়া আপনার জন্য!
আর যদি না পারেন, তাহলে…
কিছু করার নেই!
আপনি হয়তো মাসে কয়েক লক্ষ টাকা আয় করছেন কিন্তু বই পড়ছেন না, নিজের নিশ সম্পর্কে রিসার্চ করছেন না, কন্টেন্ট রাইটিং নিয়েও কোনো প্ল্যানিং করছেন না; তাহলে আপনার ব্যবসা, লক্ষ টাকা, সবই কিছুদিনের জন্য!
তারপরেই… ঠুস!

রেকমেন্ডেড আর্টিকেলসঃ

By Muntasir Mahdi

Author, Marketer, Entrepreneur, Content Creator

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *